ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রশাসনের একাধিক অভিযানে ও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

শাহরাস্তির মেহারকালিবাড়িতে উচ্ছেদের পরও দখলে মাঠের একাংশ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার মেহারকালিবাড়ি মাঠের পূর্ব পাশের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত উচ্ছেদের পর আবারও দখলে নিয়েছে প্রভাবশালী মহল।

প্রশাসনের একাধিক উচ্ছেদ অভিযান ও নোটিশের পরও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ দখলদারিত্ব। অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ফুটপাত ও চলাচলের জায়গা দখল করে বসানো হচ্ছে দোকানপাট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা।

জানা যায়, মেহারকালিবাড়ি মাঠের পূর্ব পাশের সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে প্রথমে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের পর কিছুদিনের জন্য স্বাভাবিক হয় পথচারীদের চলাচল।
কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও আগের অবস্থায় ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে পুনরায় বসানো হয় দোকানপাট।

পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেনও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। তবে একাধিকবার প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার পরও দখলদারিত্ব বন্ধ হয়নি। বরং উচ্ছেদের পর আবারও একই জায়গায় দোকানপাট বসিয়ে দখলে নেওয়া হয় মাঠের একাংশ ও ফুটপাত

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতের বড় একটি অংশ দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায় দখল হয়ে আছে।

পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে থাকা ড্রেনের ওপরও বিভিন্ন হোটেল মালিক স্থায়ীভাবে চুলা স্থাপন করেছেন। অন্যদিকে দোকানিরা ফুটপাত ও চলাচলের জায়গায় মালামাল রাখায় পথচারীদের স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়াও উপজেলার ঠাকুর বাজার এলাকায়ও দিনের বেলায় লোড-আনলোড কার্যক্রম পরিচালনা করায় প্রায় প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হয় যার ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাতায়াতকারীদের।

সরেজমিনে দেখা যায় দোকানগুলোর নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় মালামাল ওঠানামার কাজও করা হচ্ছে প্রধান সড়কের ওপর। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হলেও দখলমুক্ত ও যানজট নিরসন করা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। উচ্ছেদের পর জায়গাটি পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি পৌরসভার প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মসিউর রহমান জানান, ফুটপাত অবৈধ দখলসহ কয়েকটি বিষয়ে পৌর প্রশাসকের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন।

এ বিষয়ে মিটিং ডাকা হয়েছে মিটিং এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শাহরাস্তির মেহারকালিবাড়িতে উচ্ছেদের পরও দখলে মাঠের একাংশ

প্রশাসনের একাধিক অভিযানে ও মিলছে না স্থায়ী সমাধান

শাহরাস্তির মেহারকালিবাড়িতে উচ্ছেদের পরও দখলে মাঠের একাংশ

আপডেট : ০৯:৪০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার মেহারকালিবাড়ি মাঠের পূর্ব পাশের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত উচ্ছেদের পর আবারও দখলে নিয়েছে প্রভাবশালী মহল।

প্রশাসনের একাধিক উচ্ছেদ অভিযান ও নোটিশের পরও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ দখলদারিত্ব। অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ফুটপাত ও চলাচলের জায়গা দখল করে বসানো হচ্ছে দোকানপাট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা।

জানা যায়, মেহারকালিবাড়ি মাঠের পূর্ব পাশের সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে প্রথমে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের পর কিছুদিনের জন্য স্বাভাবিক হয় পথচারীদের চলাচল।
কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও আগের অবস্থায় ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে পুনরায় বসানো হয় দোকানপাট।

পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেনও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। তবে একাধিকবার প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার পরও দখলদারিত্ব বন্ধ হয়নি। বরং উচ্ছেদের পর আবারও একই জায়গায় দোকানপাট বসিয়ে দখলে নেওয়া হয় মাঠের একাংশ ও ফুটপাত

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতের বড় একটি অংশ দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায় দখল হয়ে আছে।

পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে থাকা ড্রেনের ওপরও বিভিন্ন হোটেল মালিক স্থায়ীভাবে চুলা স্থাপন করেছেন। অন্যদিকে দোকানিরা ফুটপাত ও চলাচলের জায়গায় মালামাল রাখায় পথচারীদের স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়াও উপজেলার ঠাকুর বাজার এলাকায়ও দিনের বেলায় লোড-আনলোড কার্যক্রম পরিচালনা করায় প্রায় প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হয় যার ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাতায়াতকারীদের।

সরেজমিনে দেখা যায় দোকানগুলোর নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় মালামাল ওঠানামার কাজও করা হচ্ছে প্রধান সড়কের ওপর। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হলেও দখলমুক্ত ও যানজট নিরসন করা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। উচ্ছেদের পর জায়গাটি পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি পৌরসভার প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মসিউর রহমান জানান, ফুটপাত অবৈধ দখলসহ কয়েকটি বিষয়ে পৌর প্রশাসকের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন।

এ বিষয়ে মিটিং ডাকা হয়েছে মিটিং এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।