ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে ভাঙা ঘরে খুকি বেগমের বসবাস, স্বপ্ন শুধু একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২ নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড ফরাজী বাড়ির খুকি বেগম দম্পতি অভাবের তীব্র কষাঘাতে পিষ্ট একটি   নিম্নবিত্ত পরিবারের অবর্ণনীয় কষ্ট, চাপা কান্না আর টিকে থাকার লড়াই।অভাব শূধু পেট পুড়িয়ে শান্ত থাকেনা।এটি পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় একঝাঁক রঙিন স্বপ্নকে ।
একটু বৃষ্টি নামলেই একচালা ঘরটা যেন এক জীবন্ত নরকে পরিণত হয়। চালের ভাঙা টিন চুইয়ে ঘরের মেঝেতে যখন টুপটুপ করে পানি পড়ে, তখন সেই শব্দের চেয়েও জোরে কেঁদে ওঠে খুকি বেগমের বুকের ভেতরটা। কিন্তু সেই কান্নার কোনো শব্দ হয় না, তা কেবলই এক বুকচাপা দীর্ঘশ্বাস।
খুকি  বেগমের স্বামী  ছায়েদুল মিয়া পেশায় একজন দিনমজুর। তীব্র অভাবের সংসারে প্রতিদিনের সূর্য ডোবার সাথে সাথে তাদের ঘরে বাড়ে এক অজানা আতঙ্ক—আগামীকাল চুলোয় হাঁড়ি চড়বে তো? গত কয়েক বছর ধরে অভাবের এই জাঁতাকল যেন তাদের পরিবারকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। একদিকে চাল-ডালের আকাশছোঁয়া দাম, অন্যদিকে ছায়েদুল মিয়ার ভাঙা শরীর। কোমরের ব্যথার কারণে এখন আর আগের মতো ভারী কাজ করতে পারেন না তিনি। ফলে আয়ের পথটা দিন দিন আরও সরু হয়ে আসছে।
খুকি ছায়েদুলের সংসারে ছোট তিনটি অবুঝ শিশু।
বয়সে ছোট হলেও তাঁরা অন্ধকারে বসে যখন ফিসফিস করে বলে, মা আজকেও কি শুধু পানি খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ব? তখন খুকি  বেগমের মনে হয় যেন এই জরাজীর্ণ ঘরের দেয়ালগুলোও তাদের এই অসহায়ত্ব দেখে আর্তনাদ করে উঠছে।
ঘরের এক কোণে ছায়েদুল মিয়া শুয়ে আছেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে তার একটাই চিন্তা, কীভাবে এই অসহায় পরিবারটিকে টেনে তুলবেন। অভাবের তাড়নায় আত্মীয়-স্বজনরা অনেক আগেই দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছে। সমাজে তাদের মতো মানুষেরা যেন কেবলই কিছু পরিসংখ্যান, যাদের ঘরের ভেতরের হাহাকার বাইরের চাকচিক্যময় দুনিয়ায় কখনোই পৌঁছায় না।
তবুও এই ভাঙা ঘরের কোণে বেঁচে থাকে এক অদ্ভুত আশা। খুকিবেগম  স্বামী ছায়েদুলের মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, “ধৈর্য ধর  এই অন্ধকার কেটে যাবে।” এই জরাজীর্ণ চার দেয়ালের আর্তনাদ হয়তো কেউ শোনে না, কিন্তু এক বুক আশা আর ধৈর্যের ওপর ভর করেই প্রতিদিন বেঁচে থাকার নতুন লড়াই শুরু করে এই অসহায় পরিবারটি।
প্রতিবেশী ইউনুস ফরাজী বলেন,খুকি বেগমকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে কুষ্টিয়া। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেখানে স্বামীর বিটে-মাটি না থাকায় বাবার বাড়িতে বসবাস করে। এখানে বাপ ভাইয়েরা না থাকায় আপনজন বলতে কেউ নাই। তার ভাঙ্গা কপাল আর জোড়া লাগলো না। সমাজের বৃত্তবানরা এগিয়ে আসলে এই দম্পতির একটি ঘরের ব্যবস্থা হয়ে গেলে তাঁরা সস্হিতে জীবন যাপন করতে পারেন।
অদম্য এই পরিবারের আকুতি, তারা কোন বিলাসি জীবন যাপন চায়না।তারা কেবল একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই,দূমোঠ অন্ন। আর অবহেলিত না হয়ে সমাজে একটু সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে খেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন

ফরিদগঞ্জে ভাঙা ঘরে খুকি বেগমের বসবাস, স্বপ্ন শুধু একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই

আপডেট : ০৭:১৯:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২ নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড ফরাজী বাড়ির খুকি বেগম দম্পতি অভাবের তীব্র কষাঘাতে পিষ্ট একটি   নিম্নবিত্ত পরিবারের অবর্ণনীয় কষ্ট, চাপা কান্না আর টিকে থাকার লড়াই।অভাব শূধু পেট পুড়িয়ে শান্ত থাকেনা।এটি পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় একঝাঁক রঙিন স্বপ্নকে ।
একটু বৃষ্টি নামলেই একচালা ঘরটা যেন এক জীবন্ত নরকে পরিণত হয়। চালের ভাঙা টিন চুইয়ে ঘরের মেঝেতে যখন টুপটুপ করে পানি পড়ে, তখন সেই শব্দের চেয়েও জোরে কেঁদে ওঠে খুকি বেগমের বুকের ভেতরটা। কিন্তু সেই কান্নার কোনো শব্দ হয় না, তা কেবলই এক বুকচাপা দীর্ঘশ্বাস।
খুকি  বেগমের স্বামী  ছায়েদুল মিয়া পেশায় একজন দিনমজুর। তীব্র অভাবের সংসারে প্রতিদিনের সূর্য ডোবার সাথে সাথে তাদের ঘরে বাড়ে এক অজানা আতঙ্ক—আগামীকাল চুলোয় হাঁড়ি চড়বে তো? গত কয়েক বছর ধরে অভাবের এই জাঁতাকল যেন তাদের পরিবারকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। একদিকে চাল-ডালের আকাশছোঁয়া দাম, অন্যদিকে ছায়েদুল মিয়ার ভাঙা শরীর। কোমরের ব্যথার কারণে এখন আর আগের মতো ভারী কাজ করতে পারেন না তিনি। ফলে আয়ের পথটা দিন দিন আরও সরু হয়ে আসছে।
খুকি ছায়েদুলের সংসারে ছোট তিনটি অবুঝ শিশু।
বয়সে ছোট হলেও তাঁরা অন্ধকারে বসে যখন ফিসফিস করে বলে, মা আজকেও কি শুধু পানি খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ব? তখন খুকি  বেগমের মনে হয় যেন এই জরাজীর্ণ ঘরের দেয়ালগুলোও তাদের এই অসহায়ত্ব দেখে আর্তনাদ করে উঠছে।
ঘরের এক কোণে ছায়েদুল মিয়া শুয়ে আছেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে তার একটাই চিন্তা, কীভাবে এই অসহায় পরিবারটিকে টেনে তুলবেন। অভাবের তাড়নায় আত্মীয়-স্বজনরা অনেক আগেই দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছে। সমাজে তাদের মতো মানুষেরা যেন কেবলই কিছু পরিসংখ্যান, যাদের ঘরের ভেতরের হাহাকার বাইরের চাকচিক্যময় দুনিয়ায় কখনোই পৌঁছায় না।
তবুও এই ভাঙা ঘরের কোণে বেঁচে থাকে এক অদ্ভুত আশা। খুকিবেগম  স্বামী ছায়েদুলের মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, “ধৈর্য ধর  এই অন্ধকার কেটে যাবে।” এই জরাজীর্ণ চার দেয়ালের আর্তনাদ হয়তো কেউ শোনে না, কিন্তু এক বুক আশা আর ধৈর্যের ওপর ভর করেই প্রতিদিন বেঁচে থাকার নতুন লড়াই শুরু করে এই অসহায় পরিবারটি।
প্রতিবেশী ইউনুস ফরাজী বলেন,খুকি বেগমকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে কুষ্টিয়া। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেখানে স্বামীর বিটে-মাটি না থাকায় বাবার বাড়িতে বসবাস করে। এখানে বাপ ভাইয়েরা না থাকায় আপনজন বলতে কেউ নাই। তার ভাঙ্গা কপাল আর জোড়া লাগলো না। সমাজের বৃত্তবানরা এগিয়ে আসলে এই দম্পতির একটি ঘরের ব্যবস্থা হয়ে গেলে তাঁরা সস্হিতে জীবন যাপন করতে পারেন।
অদম্য এই পরিবারের আকুতি, তারা কোন বিলাসি জীবন যাপন চায়না।তারা কেবল একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই,দূমোঠ অন্ন। আর অবহেলিত না হয়ে সমাজে একটু সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা।