চাঁদপুরের ৭২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মধ্যে মাত্র সাতটিতে কর্মরত রয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা। ৫৬টি অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তারা। বাকি নয়টি অফিসে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তদের দিয়ে চলছে কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে একাধিক অফিসের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। এর মধ্যেই জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগসংক্রান্ত একের পর এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।
জনবল সংকটের কারণে জমির রেকর্ড যাচাই, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, নামজারিসহ বিভিন্ন সেবা দিতে চাপের মুখে পড়ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে একাধিক অফিসের দায়িত্ব পালন করায় নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা ও সেবাপ্রত্যাশীদের চাহিদা অনুযায়ী সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে ভূমিসেবা পেতে বিলম্ব ও ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, গত কয়েক মাসে জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগসংক্রান্ত একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে এসব ভিডিও প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জনবল সংকট ও ঘুষের অভিযোগ—দুটি পৃথক সমস্যা হলেও এর প্রভাব পড়ছে ভূমিসেবার মান এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থায়। পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সেবার নির্ধারিত ফি কার্যকর করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, “জনবলের বিষয়টি মূলত মন্ত্রণালয় দেখে। আমাদের যে জনবল রয়েছে, তা দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। এরপরও রাজস্ব খাতে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রশিক্ষণ চলছে। তাঁরা কাজে যোগ দিলে জনবল সংকটের কিছুটা সমাধান হবে বলে আশা করছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “বিভিন্ন বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। যেসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”



















