চাঁদপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথ বাহিনী ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রবিরোধী বিশেষ অভিযান। এরই ধারাবাহিকতায় হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলায় পরিচালিত পৃথক দুই অভিযানে দুইজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে ২ কেজি গাঁজা ও ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ভোররাতে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে অংশ নেয় হাজীগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা। ভোর ৩টা ২৫ মিনিটে অভিযান চালিয়ে হাজীগঞ্জ জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে মোঃ খোকন (৫৯) নামের একজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল।
এর আগে ২৭ জুলাই রাতে শাহরাস্তি উপজেলার কামতা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী। রাত ১০টায় পরিচালিত এই অভিযানে আটক করা হয় মোস্তফা বেপারী (৬০) নামের আরও একজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে। তার দেহ তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
দুইটি অভিযানের ক্ষেত্রেই উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের যথাক্রমে হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলায় ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে যৌথ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত এ অভিযানে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ বেশ কয়েকজন তালিকাভুক্ত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে যৌথ বাহিনীর এই কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
চাঁদপুরের মানুষ আশা করছে, যৌথ বাহিনীর এ ধরনের কঠোর অভিযানে এলাকার মাদক চক্র চিরতরে নির্মূল হবে এবং সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।



















