হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ড টোরাগড় এলাকার স্বর্ণকলি কেজি স্কুল থেকে হামিদিয়া জুট মিলের দেয়াল ঘেঁষে ডাকাতিয়া নদীর পাড় পর্যন্ত যাওয়া রাস্তাটিসহ সংশ্লিষ্ট বাড়ি-ঘর বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার চরম ভোগান্তি ও দূর্ভোগের কবলে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতি বছর বর্ষা এলেই প্রায় তিনমাস পানিবন্দি থাকেন, ওই এলাকার দুই শতাধিক পরিবারসহ সহস্রাধিক স্থানীয় লোকজন।
এর ধারাবাহিকতায় এ বছরও বর্ষার শুরু থেকে এ পর্যন্ত ওই এলাকার লোকজন পানিবন্দি হয়ে আছেন। বিশেষ করে মুষুল ধারে বৃষ্টি হলে অনেকের রান্না ও বসতঘরে পানি ওঠে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আর দিনের পর দিন জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার অনেকেই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। ঘন্টার পর ঘন্টা এবং দিনের পর দিন নোংরা ও ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানিতে চলাফেরার কারণে বেশিরভাগ নারী ও শিশুরা রোগাক্রান্ত হয়ে থাকেন।
সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ড টোরাগড় এলাকার স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থান থেকে রাস্তাটি হামিদিয়া জুট মিলস্ হয়ে ডাকাতিয়া নদীর পাড় পর্যন্ত চলে গেছে। এ রাস্তার সম্মুখে গাজী বাড়ি থেকে দক্ষিণ তালুকদার বাড়ি পর্যন্ত পুরো রাস্তাটি ও রাস্তার পাশে থাকা সবগুলো বাড়ির বেশ কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর পূর্বে মিলের পশ্চিম পাশে বড় দিঘীটি (পুকুর) ভরাট করার পর থেকে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রতি বছর বর্ষা এলেই দিঘী সংশ্লিষ্ট রাস্তা ও বাড়ি-ঘরে প্রায় তিনমাস জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকে। আর মুষুল ধারে বৃষ্টি হলেই অনেকের রান্নাঘরসহ বসতঘরে পানি ওঠে। এতে স্থানীয় ও এলাকার লোকজনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পুকুর ভরাট ও পানি নিস্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষের।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী কালু মিয়া জানান, এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে অনেকের বসতঘরে ভেতর পর্যন্ত ঢুকে পড়ে। এতে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ময়লা পানি মাড়িয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা এবং লোকজনকে বাজার ও জরুরি কাজে যেতে হয়।
অলি মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় বৃষ্টি হলে আতঙ্ক শুরু হয়। শিশুদের কোলে নিয়ে রাস্তায় নামা যায় না। ঘরেও পানি উঠে। আর রান্না-বান্না করতে না পারায় হোটেল থেকে কিনে খেতে হয়। তাছাড়া কতদিন কিনে খাওয়া যায়? তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হোক।
সুমন তালুকদার জানান, গত দেড়মাস ধরে আমরা পানিবন্দি আছি। প্রতিবছর বর্ষা এলে এভাবেই আমাদের এলাকার লোকজনকে পানিবন্দি অবস্থায় থাকতে হয়। আমরা (পুরুষ) সকাল-সন্ধ্যায় রাস্তাঘাটে থাকলেও নারী ও শিশুদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে অনেকের পায়ের আঙ্গুলে ঘা ও চুলকানিসহ পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।
জহির আহমেদ জহির জানান, আমাদের এই এলাকাটি বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। তাই গত ১৬ বছরেও কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। এখন আমরা পানির মধ্যে ডুবে আছি। রাস্তাঘাট, বাড়ি-ঘরে পানি আর পানি। তাই, এলাকাবাসীর পক্ষে পৌর প্রশাসকের কাছে দাবি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত পানি নিস্কাশনে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং একটি স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তা না হলে, এই এলাকার লোকজনকে আগামি দিনে আরো বেশি দুর্ভোগ ও চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।



















