সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিস সংলগ্ন একটি মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে রহমানিয়া ইসলামিক একাডেমী (নূরানী শাখা)। এ প্রতিষ্ঠানটি গঠনের পেছনে যিনি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি হলেন প্রতিষ্ঠাতা মাওঃ মুনাওয়ার হুসাইন মাসুম।
প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এ একাডেমীর মূল লক্ষ্য—মুসলিম শিশুদেরকে প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলামিক শিক্ষার পাশাপাশি জেনারেল (সাধারণ) শিক্ষায় পারদর্শী করে গড়ে তোলা। আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতির সংমিশ্রণে, দ্বীন ও দুনিয়ার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠান দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৬০ জন এবং পাঠদান করছেন ৫ জন অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক। পাঠ্যক্রমে রয়েছে: কুরআন শিক্ষা (নূরানি পদ্ধতি ও হিফজ) আরবি ভাষা ও ইসলামি আদর্শ। বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ জাতীয় পাঠ্যক্রমভুক্ত বিষয়সমূহ শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজস্ব সৃজনশীলতা বিকাশে জোর দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় সুন্দর হাতের লেখা শেখানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব
প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতি ব্যক্তিগত মনোযোগ শুদ্ধ উচ্চারণে কুরআন তিলাওয়াত শেখানো, নিয়মিত মেধা যাচাই ও মূল্যায়ন,নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ সকালকালীন অ্যাসেম্বলি।
মাদ্রাসায় সন্তানদের আগ্রহ ও অগ্রগতি দেখে অভিভাবকরাও দারুণ সন্তুষ্ট। একজন অভিভাবক জানান,আমার সন্তান অল্প সময়ের মধ্যেই সুন্দরভাবে কুরআন পড়া, আরবি ও বাংলা লেখায় দক্ষতা অর্জন করেছে। তার হাতের লেখা দেখে আমরা সত্যিই মুগ্ধ। এমন পরিবেশে সন্তানকে পড়াতে পেরে আমরা গর্বিত।”আরেকজন অভিভাবক বলেন, আমরা আগে ভাবতাম, মাদ্রাসায় শুধু ধর্মীয় শিক্ষা হয়। কিন্তু এখানে তো বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজির মতো বিষয়ও সমান গুরুত্ব দিয়ে শেখানো হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতা মাওঃ মুনাওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, আমাদের স্বপ্ন এই শিশুদেরকে দ্বীনি ও দুনিয়াবি শিক্ষায় এমনভাবে গড়ে তোলা, যেন তারা একজন আদর্শ মানুষ, ভালো নাগরিক এবং আলোকিত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে হিফজ বিভাগ ও বালক-বালিকা আলাদা শাখা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। রহমানিয়া ইসলামিক একাডেমী (নূরানী শাখা) আজ একটি আশার আলো হয়ে উঠেছে সোনাতলার শিক্ষানুরাগী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে। যারা সন্তানদের আধুনিক ও ইসলামি শিক্ষার সমন্বিত ধারায় গড়ে তুলতে চান, তাদের জন্য এ প্রতিষ্ঠান একটি আদর্শ ঠিকানা।

















