ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার সোনাতলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ সৈকতের পিতার আকুতি: “আমি আমার ছেলের হ*ত্যার বিচার চাই”

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৭:২৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
  • 33

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাভারে  পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বগুড়ার সোনাতলার মেধাবী ছাত্র আবদুল আসাদ সৈকত। ছেলের মৃত্যুতে এক বুক কষ্ট নিয়ে বিচারের দাবিতে কাঁদছেন সৈকতের বাবা নজরুল ইসলাম।

সোনাতলার উত্তর দিঘলকান্দী গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, তার ছেলে সৈকত ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। “ক্লাস ওয়ান থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কখনো ফেল করেনি। তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে গরিব মানুষের সেবা করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল,”—বলেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন সৈকত। সেখানেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি।
বিষাদমাখা কণ্ঠে নজরুল ইসলাম বলেন, “সৈকত ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলত। আবু সাইদের মৃত্যু ওর মনে প্রচণ্ড দাগ কেটেছিল। তারপর থেকে ওকে আর ঘরে রাখা যেত না। বহুবার বলেছি—বাবা, মিছিলে যাস না। সে বলত—‘বাবা, আমি যতই মেধাবী হই, এই বৈষম্যের সমাজে চাকরি পাবো না। আমি যদি শহীদও হই, আমার আফসোস নেই। আমি চাই, পরের প্রজন্ম যেন এই বৈষম্যের শিকার না হয়।’”

ছেলের মৃত্যুর দিনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, “সেদিন আমি কর্মস্থলে ছিলাম। হঠাৎ ফোন আসে—আপনার ছেলেকে গুলি করা হয়েছে। ছুটে যাই এনাম মেডিক্যালে। ভর্তি হওয়ার ১ ঘণ্টা ২৩ মিনিট পর আমার ছেলে মারা যায়। পরে গ্রামে এনে তাকে কবর দিই। সৈকতের মায়ের চোখের পানি কে থামাবে!

তবে নজরুল ইসলামের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো তদন্ত হয়নি, কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।
“আমি সরকারের কাছে বিচার চাই। যারা গুলি করেছে, যারা নির্দেশ দিয়েছে—তাদের বিচার চাই। আমি চাই, শেখ হাসিনা বিচারের মুখোমুখি হোক। আমি তার ফাঁসি চাই। আমার ছেলেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের মর্যাদা দেওয়া হোক।”
ঘটনার বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন,
“আব্দুল আসাদ সৈকতের মৃত্যু একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক ঘটনা। সে একজন মেধাবী ও আদর্শবাদী ছাত্র ছিল, যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল। এই আন্দোলনে তার শহীদ হওয়াকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।”
তিনি আরও জানান, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই শহীদ সৈকতের পরিবারের পাশে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাপ্ত সরকারি অনুদান যথাযথভাবে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু অনুদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা খুব শিগগিরই দেওয়া হবে।”

ইউএনও আরো বলেন, শহীদ সৈকতের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা তার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং পরিবারের পাশে সহানুভূতির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় অনন্য হাজীগঞ্জের কলামিস্ট কাজী মোরশেদ আলম

বগুড়ার সোনাতলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ সৈকতের পিতার আকুতি: “আমি আমার ছেলের হ*ত্যার বিচার চাই”

আপডেট : ০৭:২৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাভারে  পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বগুড়ার সোনাতলার মেধাবী ছাত্র আবদুল আসাদ সৈকত। ছেলের মৃত্যুতে এক বুক কষ্ট নিয়ে বিচারের দাবিতে কাঁদছেন সৈকতের বাবা নজরুল ইসলাম।

সোনাতলার উত্তর দিঘলকান্দী গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, তার ছেলে সৈকত ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। “ক্লাস ওয়ান থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কখনো ফেল করেনি। তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে গরিব মানুষের সেবা করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল,”—বলেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন সৈকত। সেখানেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি।
বিষাদমাখা কণ্ঠে নজরুল ইসলাম বলেন, “সৈকত ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলত। আবু সাইদের মৃত্যু ওর মনে প্রচণ্ড দাগ কেটেছিল। তারপর থেকে ওকে আর ঘরে রাখা যেত না। বহুবার বলেছি—বাবা, মিছিলে যাস না। সে বলত—‘বাবা, আমি যতই মেধাবী হই, এই বৈষম্যের সমাজে চাকরি পাবো না। আমি যদি শহীদও হই, আমার আফসোস নেই। আমি চাই, পরের প্রজন্ম যেন এই বৈষম্যের শিকার না হয়।’”

ছেলের মৃত্যুর দিনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, “সেদিন আমি কর্মস্থলে ছিলাম। হঠাৎ ফোন আসে—আপনার ছেলেকে গুলি করা হয়েছে। ছুটে যাই এনাম মেডিক্যালে। ভর্তি হওয়ার ১ ঘণ্টা ২৩ মিনিট পর আমার ছেলে মারা যায়। পরে গ্রামে এনে তাকে কবর দিই। সৈকতের মায়ের চোখের পানি কে থামাবে!

তবে নজরুল ইসলামের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো তদন্ত হয়নি, কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।
“আমি সরকারের কাছে বিচার চাই। যারা গুলি করেছে, যারা নির্দেশ দিয়েছে—তাদের বিচার চাই। আমি চাই, শেখ হাসিনা বিচারের মুখোমুখি হোক। আমি তার ফাঁসি চাই। আমার ছেলেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের মর্যাদা দেওয়া হোক।”
ঘটনার বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন,
“আব্দুল আসাদ সৈকতের মৃত্যু একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক ঘটনা। সে একজন মেধাবী ও আদর্শবাদী ছাত্র ছিল, যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল। এই আন্দোলনে তার শহীদ হওয়াকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।”
তিনি আরও জানান, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই শহীদ সৈকতের পরিবারের পাশে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাপ্ত সরকারি অনুদান যথাযথভাবে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু অনুদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা খুব শিগগিরই দেওয়া হবে।”

ইউএনও আরো বলেন, শহীদ সৈকতের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা তার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং পরিবারের পাশে সহানুভূতির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”