ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলে কোন দেশগুলো থাকবে সবচেয়ে নিরাপদ?

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০২:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • 849

সর্বশেষ ২০২৫ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই) অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটি এই সূচকে প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে। ইতিহাসে কখনও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বা আগ্রাসনে জড়ায়নি আইসল্যান্ড। ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে অবস্থান করায় বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলে বিশ্লেষকদের মত।
আইসল্যান্ডের নিজস্ব কোনো স্থায়ী সামরিক বাহিনী নেই। তবে দেশটি ন্যাটো-র সদস্য। জোটের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ মানে সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ন্যাটোর সদস্যপদ দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। যদিও বড় ধরনের বৈশ্বিক সংঘাতের ক্ষেত্রে জোটগত বাধ্যবাধকতা সামনে আসতে পারে—এমন তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে।
শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আয়ারল্যান্ড। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে সামরিক নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে আসছে। যদিও তাদের একটি ছোট প্রতিরক্ষা বাহিনী রয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার কারণে আয়ারল্যান্ডকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ নিউজিল্যান্ড। ভৌগোলিকভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় বৈশ্বিক সংঘাতের কেন্দ্র থেকে অনেকটাই দূরে দেশটি। নিজস্ব সামরিক বাহিনী থাকলেও নিউজিল্যান্ড সাধারণভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য পরিচিত। বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাত সৃষ্টি হলেও তা অন্য অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকবে—এমন ধারণা থেকেই দেশটিকে সম্ভাব্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখা হয়।
২০২৫ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের শীর্ষ দশে আরও রয়েছে অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, ডেনমার্ক, স্লোভেনিয়া এবং ফিনল্যান্ড। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের এই তালিকা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলে কোন দেশগুলো থাকবে সবচেয়ে নিরাপদ?

আপডেট : ০২:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

সর্বশেষ ২০২৫ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই) অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটি এই সূচকে প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে। ইতিহাসে কখনও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বা আগ্রাসনে জড়ায়নি আইসল্যান্ড। ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে অবস্থান করায় বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলে বিশ্লেষকদের মত।
আইসল্যান্ডের নিজস্ব কোনো স্থায়ী সামরিক বাহিনী নেই। তবে দেশটি ন্যাটো-র সদস্য। জোটের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ মানে সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ন্যাটোর সদস্যপদ দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। যদিও বড় ধরনের বৈশ্বিক সংঘাতের ক্ষেত্রে জোটগত বাধ্যবাধকতা সামনে আসতে পারে—এমন তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে।
শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আয়ারল্যান্ড। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে সামরিক নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে আসছে। যদিও তাদের একটি ছোট প্রতিরক্ষা বাহিনী রয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার কারণে আয়ারল্যান্ডকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ নিউজিল্যান্ড। ভৌগোলিকভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় বৈশ্বিক সংঘাতের কেন্দ্র থেকে অনেকটাই দূরে দেশটি। নিজস্ব সামরিক বাহিনী থাকলেও নিউজিল্যান্ড সাধারণভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য পরিচিত। বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাত সৃষ্টি হলেও তা অন্য অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকবে—এমন ধারণা থেকেই দেশটিকে সম্ভাব্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখা হয়।
২০২৫ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের শীর্ষ দশে আরও রয়েছে অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, ডেনমার্ক, স্লোভেনিয়া এবং ফিনল্যান্ড। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের এই তালিকা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।