ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাইভেট পড়ালে এমপিও বাতিল, বন্ধ হবে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বরাদ্দ: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

স্কুল শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল। একই সঙ্গে এ নির্দেশ অমান্য করে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়ালে তার এমপিও বাতিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাবতীয় উন্নয়ন বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) নাটোরের লালপুর উপজেলার বরমহাটি সমবায় উচ্চ বিদ্যালয় ও বিলায়েত খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের মূল পড়াশোনা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষকদের দায়িত্ব হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে পাঠদান নিশ্চিত করা। বিদ্যালয়ের বাইরে বাধ্যতামূলকভাবে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে দুর্বল থাকে, তাহলে তাকে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের দিকে ঠেলে না দিয়ে বিদ্যালয়ের উদ্যোগে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা বাড়তি অর্থ ব্যয় ছাড়াই প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে এবং শিক্ষার মানও বাড়বে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকরা যদি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে পাঠদান করেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের আলাদা করে প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। তাই শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রত্যেক শিক্ষককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট বা কোচিং করালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের এমপিও বাতিল করা হবে এবং যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবেন, সেই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বরাদ্দও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
মতবিনিময় সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান জোরদার এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

 

 

আরকে/ সাইফ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, কৃতি শিক্ষার্থী ও নবগঠিত কমিটির সদস্যদের সম্মাননা

প্রাইভেট পড়ালে এমপিও বাতিল, বন্ধ হবে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বরাদ্দ: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

আপডেট : ০৬:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

স্কুল শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল। একই সঙ্গে এ নির্দেশ অমান্য করে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়ালে তার এমপিও বাতিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাবতীয় উন্নয়ন বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) নাটোরের লালপুর উপজেলার বরমহাটি সমবায় উচ্চ বিদ্যালয় ও বিলায়েত খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের মূল পড়াশোনা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষকদের দায়িত্ব হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে পাঠদান নিশ্চিত করা। বিদ্যালয়ের বাইরে বাধ্যতামূলকভাবে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে দুর্বল থাকে, তাহলে তাকে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের দিকে ঠেলে না দিয়ে বিদ্যালয়ের উদ্যোগে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা বাড়তি অর্থ ব্যয় ছাড়াই প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে এবং শিক্ষার মানও বাড়বে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকরা যদি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে পাঠদান করেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের আলাদা করে প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। তাই শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রত্যেক শিক্ষককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট বা কোচিং করালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের এমপিও বাতিল করা হবে এবং যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবেন, সেই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বরাদ্দও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
মতবিনিময় সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান জোরদার এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

 

 

আরকে/ সাইফ