ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আনসার-ভিডিপির প্রথম নারী অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ফাতেমা সুলতানা

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৬:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • 106

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় রচনা করেছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ফাতেমা সুলতানা। তিনি ছিলেন বাহিনীটির প্রথম নারী অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি)। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখে তিনি আনসার-ভিডিপি বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
ফাতেমা সুলতানা ২০২৩ সালের ২২ জুন উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পান। এর মধ্য দিয়ে আনসার-ভিডিপির ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে এডিজি পদে অধিষ্ঠিত হয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি। পরবর্তীতে একই বছরের ৬ জুলাই দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে স্বাভাবিক অবসরে যান।
ফাতেমা সুলতানা ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর ৮ম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পরিচালক হিসেবে আনসার ক্যাডারে যোগদান করেন। ঢাকা জেলায় সহকারী পরিচালক হিসেবে শুরু হয় তার কর্মজীবন।
দীর্ঘ চাকরিজীবনে তিনি আনসার-ভিডিপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। কুমিল্লা রেঞ্জের সহকারী পরিচালক ছাড়াও সদর দপ্তরের যোগাযোগ, রেকর্ড (ব্যাটালিয়ন), প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ শাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
উপপরিচালক হিসেবে সদর দপ্তরের ভান্ডার, ভিডিপি প্রশিক্ষণ শাখা, আনসার-ভিডিপি একাডেমি, জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় নারায়ণগঞ্জ এবং ৩৩ আনসার ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে পরিচালক হিসেবে সদর দপ্তরের আনসার প্রশিক্ষণ, সিএইচটি অপস শাখা এবং আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে পরিচালকের (সদর) দায়িত্ব পালন করেন। উপমহাপরিচালক হিসেবে তিনি বাহিনীর রাজশাহী ও ঢাকা রেঞ্জ কার্যালয়ে রেঞ্জ কমান্ডারের দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে পালন করেন। পদোন্নতির আগে তিনি ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মজীবনে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ফাতেমা সুলতানা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পন্ন করা ‘ভাইটাল ইনস্টলেশন সিকিউরিটি’ কোর্স উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বাংলাদেশেও তিনি বিভিন্ন পেশাগত ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ফাতেমা সুলতানা চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার লুধুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মরহুম সুলতান আহম্মেদ খান ও বেগম জাহানারা খানের সন্তান। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জননী।
চাঁদপুরের প্রত্যন্ত লুধুয়া গ্রামের সন্তান হিসেবে ফাতেমা সুলতানার এই অর্জন শুধু তার পরিবার নয়, পুরো চাঁদপুরবাসীর জন্য গর্বের। আনসার-ভিডিপির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে প্রথম নারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশের নারী কর্মকর্তাদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সোনাতলায় সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, মণ্ডল হোটেলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

আনসার-ভিডিপির প্রথম নারী অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ফাতেমা সুলতানা

আপডেট : ০৬:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় রচনা করেছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ফাতেমা সুলতানা। তিনি ছিলেন বাহিনীটির প্রথম নারী অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি)। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখে তিনি আনসার-ভিডিপি বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
ফাতেমা সুলতানা ২০২৩ সালের ২২ জুন উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পান। এর মধ্য দিয়ে আনসার-ভিডিপির ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে এডিজি পদে অধিষ্ঠিত হয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি। পরবর্তীতে একই বছরের ৬ জুলাই দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে স্বাভাবিক অবসরে যান।
ফাতেমা সুলতানা ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর ৮ম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পরিচালক হিসেবে আনসার ক্যাডারে যোগদান করেন। ঢাকা জেলায় সহকারী পরিচালক হিসেবে শুরু হয় তার কর্মজীবন।
দীর্ঘ চাকরিজীবনে তিনি আনসার-ভিডিপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। কুমিল্লা রেঞ্জের সহকারী পরিচালক ছাড়াও সদর দপ্তরের যোগাযোগ, রেকর্ড (ব্যাটালিয়ন), প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ শাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
উপপরিচালক হিসেবে সদর দপ্তরের ভান্ডার, ভিডিপি প্রশিক্ষণ শাখা, আনসার-ভিডিপি একাডেমি, জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় নারায়ণগঞ্জ এবং ৩৩ আনসার ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে পরিচালক হিসেবে সদর দপ্তরের আনসার প্রশিক্ষণ, সিএইচটি অপস শাখা এবং আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে পরিচালকের (সদর) দায়িত্ব পালন করেন। উপমহাপরিচালক হিসেবে তিনি বাহিনীর রাজশাহী ও ঢাকা রেঞ্জ কার্যালয়ে রেঞ্জ কমান্ডারের দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে পালন করেন। পদোন্নতির আগে তিনি ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মজীবনে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ফাতেমা সুলতানা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পন্ন করা ‘ভাইটাল ইনস্টলেশন সিকিউরিটি’ কোর্স উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বাংলাদেশেও তিনি বিভিন্ন পেশাগত ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ফাতেমা সুলতানা চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার লুধুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মরহুম সুলতান আহম্মেদ খান ও বেগম জাহানারা খানের সন্তান। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জননী।
চাঁদপুরের প্রত্যন্ত লুধুয়া গ্রামের সন্তান হিসেবে ফাতেমা সুলতানার এই অর্জন শুধু তার পরিবার নয়, পুরো চাঁদপুরবাসীর জন্য গর্বের। আনসার-ভিডিপির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে প্রথম নারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশের নারী কর্মকর্তাদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।