ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে সরকারি খাসজমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, ওয়াকফ এস্টেট ও বড় মসজিদ কমপ্লেক্সকে নোটিশ

  • রিয়াজ শাওন
  • আপডেট : ০৩:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • 393

 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সরকারি খাসজমিতে যথাযথ সরকারি অনুমোদন বা বৈধ বন্দোবস্ত ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে আহাম্মদ আলী পাটোয়ারী ওয়াকফ এস্টেট ও হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে নির্মাণকাজসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ নোটিশ জারি করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন। এ সময় উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার, কানুনগো, সংশ্লিষ্ট তহশিলদারসহ ভূমি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ২১৩ নম্বর ও হাল ৮৩ নম্বর মকিমাবাদ মৌজার সংশ্লিষ্ট দাগের সিএস ও বিএস রেকর্ড পর্যালোচনায় জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় ওই জমিতে আহাম্মদ আলী পাটোয়ারী ওয়াকফ এস্টেট ও হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

 

প্রশাসনের নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি অনুমোদন বা বৈধ বন্দোবস্ত ছাড়া সরকারি খাসজমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১১ ধারার আওতাভুক্ত।

এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জমির মালিকানা কিংবা বৈধ দখলের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র উপজেলা ভূমি অফিসে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্টরা ভূমি অফিসে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করেননি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে মোতোয়াল্লির পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি পাঠানোর কথা জানানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিনিধি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ভূমি অফিসে উপস্থিত হননি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে বুধবার সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মোতোয়াল্লির প্রেরিত প্রতিনিধির কাছে লিখিত নোটিশ হস্তান্তর করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলে নোটিশ লটকিয়ে দেওয়া এবং সরকারি খাসজমি চিহ্নিত করতে লাল নিশানা স্থাপন করা হয়।

 

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নির্মাণের বৈধ মালিকানা, বন্দোবস্ত, ইজারা অথবা সরকারি অনুমোদন/অনুমতি থাকলে তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নোটিশ প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসে উপস্থাপন করতে হবে।

 

বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি খাসজমিতে স্থাপনা নির্মাণসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ও বৈধ কাগজপত্র দাখিল করা না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, “সিএস ও বিএস রেকর্ড পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। সরকারি খাসজমিতে বৈধ বন্দোবস্ত বা যথাযথ সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করা না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে জেলা পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

হাজীগঞ্জে সরকারি খাসজমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, ওয়াকফ এস্টেট ও বড় মসজিদ কমপ্লেক্সকে নোটিশ

আপডেট : ০৩:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সরকারি খাসজমিতে যথাযথ সরকারি অনুমোদন বা বৈধ বন্দোবস্ত ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে আহাম্মদ আলী পাটোয়ারী ওয়াকফ এস্টেট ও হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে নির্মাণকাজসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ নোটিশ জারি করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন। এ সময় উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার, কানুনগো, সংশ্লিষ্ট তহশিলদারসহ ভূমি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ২১৩ নম্বর ও হাল ৮৩ নম্বর মকিমাবাদ মৌজার সংশ্লিষ্ট দাগের সিএস ও বিএস রেকর্ড পর্যালোচনায় জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় ওই জমিতে আহাম্মদ আলী পাটোয়ারী ওয়াকফ এস্টেট ও হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

 

প্রশাসনের নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি অনুমোদন বা বৈধ বন্দোবস্ত ছাড়া সরকারি খাসজমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১১ ধারার আওতাভুক্ত।

এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জমির মালিকানা কিংবা বৈধ দখলের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র উপজেলা ভূমি অফিসে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্টরা ভূমি অফিসে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করেননি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে মোতোয়াল্লির পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি পাঠানোর কথা জানানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিনিধি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ভূমি অফিসে উপস্থিত হননি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে বুধবার সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মোতোয়াল্লির প্রেরিত প্রতিনিধির কাছে লিখিত নোটিশ হস্তান্তর করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলে নোটিশ লটকিয়ে দেওয়া এবং সরকারি খাসজমি চিহ্নিত করতে লাল নিশানা স্থাপন করা হয়।

 

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নির্মাণের বৈধ মালিকানা, বন্দোবস্ত, ইজারা অথবা সরকারি অনুমোদন/অনুমতি থাকলে তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নোটিশ প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসে উপস্থাপন করতে হবে।

 

বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি খাসজমিতে স্থাপনা নির্মাণসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ও বৈধ কাগজপত্র দাখিল করা না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, “সিএস ও বিএস রেকর্ড পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। সরকারি খাসজমিতে বৈধ বন্দোবস্ত বা যথাযথ সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করা না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”