ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতা রাহাতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হামলার অভিযোগ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর বড়কুল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতা ইবনে জাবির রাহাত (১৯)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো এবং তাকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রাহাত।

মামলার আসামিরা হলেন—রামচন্দ্রপুর গ্রামের হাছান হাওলাদার (৩০), ইমাম হাওলাদার (৩১), একরাম গাজী (২৯) ও আকবর হাওলাদার (৩০)।
মামলার এজাহারে রাহাত অভিযোগ করেন, হাছান হাওলাদার এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রায় এক মাস আগে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে এবং রাহাতের সহযোগিতায় হাছান মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর থেকেই রাহাতের ওপর হাছানসহ বিবাদীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
রাহাতের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, ‘তুই ভালো করলি না, এরপর তোর নাম ভালো হবে না’—এ ধরনের কথা বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হয়রানির ঘটনা শুরু হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রাহাত আরও অভিযোগ করেন, তাকে ফাঁসাতে আরিফ হাওলাদারের স্ত্রীকে জড়িয়ে জোরপূর্বক একটি কথিত পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার দাবি, ওই নারী তার চাচি সম্পর্কের। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা রাতে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন।
এছাড়া রাহাতের দাবি, গত ১২ আগস্ট হাছান হাওলাদার তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সময় এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন তিনি বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন বলে জানান।
অন্যদিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে রাহাতের ওপর হাছান হাওলাদার ও তার সহযোগীরা হামলা চালান। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে একরাম গাজী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগও করেছেন রাহাত।
রাহাত বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো, অপপ্রচার ও হয়রানি করা হচ্ছে। আমাকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাছান হাওলাদারের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, “ভুক্তভোগী রাহাতের পক্ষ থেকে চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে জেলা পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

হাজীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতা রাহাতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হামলার অভিযোগ

আপডেট : ১০:১২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর বড়কুল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতা ইবনে জাবির রাহাত (১৯)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো এবং তাকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রাহাত।

মামলার আসামিরা হলেন—রামচন্দ্রপুর গ্রামের হাছান হাওলাদার (৩০), ইমাম হাওলাদার (৩১), একরাম গাজী (২৯) ও আকবর হাওলাদার (৩০)।
মামলার এজাহারে রাহাত অভিযোগ করেন, হাছান হাওলাদার এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রায় এক মাস আগে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে এবং রাহাতের সহযোগিতায় হাছান মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর থেকেই রাহাতের ওপর হাছানসহ বিবাদীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
রাহাতের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, ‘তুই ভালো করলি না, এরপর তোর নাম ভালো হবে না’—এ ধরনের কথা বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হয়রানির ঘটনা শুরু হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রাহাত আরও অভিযোগ করেন, তাকে ফাঁসাতে আরিফ হাওলাদারের স্ত্রীকে জড়িয়ে জোরপূর্বক একটি কথিত পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার দাবি, ওই নারী তার চাচি সম্পর্কের। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা রাতে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন।
এছাড়া রাহাতের দাবি, গত ১২ আগস্ট হাছান হাওলাদার তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সময় এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন তিনি বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন বলে জানান।
অন্যদিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে রাহাতের ওপর হাছান হাওলাদার ও তার সহযোগীরা হামলা চালান। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে একরাম গাজী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগও করেছেন রাহাত।
রাহাত বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো, অপপ্রচার ও হয়রানি করা হচ্ছে। আমাকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাছান হাওলাদারের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, “ভুক্তভোগী রাহাতের পক্ষ থেকে চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।