ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলব দক্ষিণে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার করলেন যুবকরা

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 68
 চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নের বহরী গ্রামে যুবকদের  স্বেচ্ছাশ্রমে  প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার  করা হয়েছে।
বহরী  শহীদের দোকান সংলগ্ন বাইতুল ইলাহ্ জামে মসজিদ থেকে বহরী আবদুর রহীম জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন ও সংস্কার কাজটি গত ৩ দিনে শেষ করেন স্বেচ্ছাশ্রমী যুবকেরা।
 বিলে চাষাবাদ, সেখান থেকে ফসল বাড়িতে নেয়া এবং আশপাশের স্কুল ও বিভিন্ন হাট বাজারে যাতায়াতের  একটিমাত্র রাস্তা হচ্ছে এটি।
  বছরের পর বছর সে কাঁচা রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য। বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টিতে কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায়। ভোগান্তির শেষ থাকে না কৃষকদের।
সরকারি কোনো বরাদ্দ না পেয়ে  বাধ্য হয়ে ইট-বালি ফেলে নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি নির্মাণ শুরু করলেন স্থানীয় যুবকেরা।তাদের এ স্বেচ্ছাশ্রম এর কাজের সাথে অংশীদার হয়েছেন বয়- বৃদ্ধরাও।
 স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ২  কিলোমিটার দৈর্ঘের কাঁচা রাস্তাটি এ এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিলে চাষাবাদে যাতায়াত ও ফসল আনা-নেয়ার জন্য এটি একমাত্র রাস্তা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। বৃষ্টি হলেও কাদা পানিতে চলাচল দায় হয়ে যায়। ফসল নিয়ে বিল থেকে আসতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই  জি. এম. আবদুর রহমান রাসেল সংস্কার কাজের উদ্যেগ নেন। ওনার এ উদ্যেগের সাথে বুদ্ধি, পরামর্শ ও সহযোগিতা করেন হাফেজ মোঃ রফিকুল ইসলাম,মোঃ জাকির হোসেন প্রধান,মোঃ মিজানুর রহমান প্রধান,হাফেজ মোঃ জাকির হোসেন,মোঃ মোক্তার হোসেন মিয়াজী,মোঃ রবিউল হাসান মিন্টু,মোঃ ইসমাইল হোসেন মিয়াজী,মোঃ বোরহান উদ্দিন বকাউল,মোঃ বোরহান উদ্দিন প্রধান,মোঃ হাসান কাজী,মোঃ সাইদুল ইসলাম বাপ্পি,মোঃ কামরুল মিয়াজী,মোঃ আমিন হোসেন ছৈয়াল,মোঃ ফয়সাল প্রধান,মোঃ মামুন প্রধান,মোঃ সোহেল কাজী,মোঃ মাসুম প্রধান,মোঃ খোরশেদ প্রধানসহ অনেকে।
  নিজেদের প্রয়োজনে ইট-বালি ফেলে রাস্তাটি নির্মাণ করেছে তারা।
 উদ্যেক্তা আবদুর রহমান রাসেল  বলেন,খালে ও বিলে এবং  আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ চাষাবাদ করেন। এই ফসলই এখানকার মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস। কিন্তু বিলে যাতায়াতে কৃষকের ভোগান্তির শেষ নেই, অবহেলিত। গাড়ি যাতায়াত করতে পারে না। ছোট ছোাট ছেলে মেয়েদের স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হতো।যাতায়াত করতে গিয়ে  অনেকে আহত হয়েছেন। রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে আমরা স্থানীয় মেম্বার ও  চেয়ারম্যানের নিকট বলেও কোন কাজ হয়নি। তাই আমরা যুবকরা  নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করছি।
 হাফেজ মোঃ রফিকুল ইসলাম
 জানান, আমাদের এই মাঠে প্রচুর ফসল জন্মে। এখানে অনেক জমি আছে। কিন্তু মাঠের ফসল আমরা ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারি না। গরু-ছাগল নিয়ে আসা যাওয়া করতে পারিনা। বৃষ্টির পানি জমে বড় বড় গর্ত এবং  কাঁদার কারনে   এখান দিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। বিল থেকে মূল সড়কে উঠতে পারে না। কাদার মধ্যে হাবুডুবু খায়। ফসল নষ্ট হয়। এই কারণে যুবকরা  নিজেদের অর্থায়নে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটা নির্মাণ করেছে।
স্থানীয় কৃষক মুক্তার হোসেন মিয়াজী  জানান, আমাদের এই সড়কটা খুব খারাপ। কৃষকরা বিল থেকে ধান কেটে গাড়িতে আনার সময় বিপদে পড়ে। কাদা পানিতে গাড়ি নষ্ট হয়। আবার নিচু বিলের রাস্তা থেকে উঁচু মূল সড়কে উঠাতে পারে না। আশপাশের মানুষ ডেকে এনে সবাই মিলে গাড়ি ঠেলে উপরে তুলতে হয়। এ সময় কেউ বা আহত হয়। এই রকম কষ্ট হয়। দেখলাম যখন কোনো জায়গা থেকে কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না, তখন গ্রামের মানুষ সবাই পরামর্শ করে নিজেরাই টাকা দিয়ে রাস্তাটি মেরামত করছি।
  স্থানীয়  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহীদ উল্লাহ প্রধান  জানান,রাস্তাটি বেহাল অবস্থা ছিল।অতিবৃষ্টির কারনে পানি জমে গর্ত ও কাঁদায় পরিনত হয়েছে এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।বরাদ্দ না থাকায় কাজটি করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় যুবকদের নিজ অর্থায়নে স্বেচ্ছাশ্রমের  উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে জেলা পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

মতলব দক্ষিণে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার করলেন যুবকরা

আপডেট : ১১:০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
 চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নের বহরী গ্রামে যুবকদের  স্বেচ্ছাশ্রমে  প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার  করা হয়েছে।
বহরী  শহীদের দোকান সংলগ্ন বাইতুল ইলাহ্ জামে মসজিদ থেকে বহরী আবদুর রহীম জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন ও সংস্কার কাজটি গত ৩ দিনে শেষ করেন স্বেচ্ছাশ্রমী যুবকেরা।
 বিলে চাষাবাদ, সেখান থেকে ফসল বাড়িতে নেয়া এবং আশপাশের স্কুল ও বিভিন্ন হাট বাজারে যাতায়াতের  একটিমাত্র রাস্তা হচ্ছে এটি।
  বছরের পর বছর সে কাঁচা রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য। বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টিতে কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায়। ভোগান্তির শেষ থাকে না কৃষকদের।
সরকারি কোনো বরাদ্দ না পেয়ে  বাধ্য হয়ে ইট-বালি ফেলে নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি নির্মাণ শুরু করলেন স্থানীয় যুবকেরা।তাদের এ স্বেচ্ছাশ্রম এর কাজের সাথে অংশীদার হয়েছেন বয়- বৃদ্ধরাও।
 স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ২  কিলোমিটার দৈর্ঘের কাঁচা রাস্তাটি এ এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিলে চাষাবাদে যাতায়াত ও ফসল আনা-নেয়ার জন্য এটি একমাত্র রাস্তা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। বৃষ্টি হলেও কাদা পানিতে চলাচল দায় হয়ে যায়। ফসল নিয়ে বিল থেকে আসতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই  জি. এম. আবদুর রহমান রাসেল সংস্কার কাজের উদ্যেগ নেন। ওনার এ উদ্যেগের সাথে বুদ্ধি, পরামর্শ ও সহযোগিতা করেন হাফেজ মোঃ রফিকুল ইসলাম,মোঃ জাকির হোসেন প্রধান,মোঃ মিজানুর রহমান প্রধান,হাফেজ মোঃ জাকির হোসেন,মোঃ মোক্তার হোসেন মিয়াজী,মোঃ রবিউল হাসান মিন্টু,মোঃ ইসমাইল হোসেন মিয়াজী,মোঃ বোরহান উদ্দিন বকাউল,মোঃ বোরহান উদ্দিন প্রধান,মোঃ হাসান কাজী,মোঃ সাইদুল ইসলাম বাপ্পি,মোঃ কামরুল মিয়াজী,মোঃ আমিন হোসেন ছৈয়াল,মোঃ ফয়সাল প্রধান,মোঃ মামুন প্রধান,মোঃ সোহেল কাজী,মোঃ মাসুম প্রধান,মোঃ খোরশেদ প্রধানসহ অনেকে।
  নিজেদের প্রয়োজনে ইট-বালি ফেলে রাস্তাটি নির্মাণ করেছে তারা।
 উদ্যেক্তা আবদুর রহমান রাসেল  বলেন,খালে ও বিলে এবং  আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ চাষাবাদ করেন। এই ফসলই এখানকার মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস। কিন্তু বিলে যাতায়াতে কৃষকের ভোগান্তির শেষ নেই, অবহেলিত। গাড়ি যাতায়াত করতে পারে না। ছোট ছোাট ছেলে মেয়েদের স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হতো।যাতায়াত করতে গিয়ে  অনেকে আহত হয়েছেন। রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে আমরা স্থানীয় মেম্বার ও  চেয়ারম্যানের নিকট বলেও কোন কাজ হয়নি। তাই আমরা যুবকরা  নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করছি।
 হাফেজ মোঃ রফিকুল ইসলাম
 জানান, আমাদের এই মাঠে প্রচুর ফসল জন্মে। এখানে অনেক জমি আছে। কিন্তু মাঠের ফসল আমরা ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারি না। গরু-ছাগল নিয়ে আসা যাওয়া করতে পারিনা। বৃষ্টির পানি জমে বড় বড় গর্ত এবং  কাঁদার কারনে   এখান দিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। বিল থেকে মূল সড়কে উঠতে পারে না। কাদার মধ্যে হাবুডুবু খায়। ফসল নষ্ট হয়। এই কারণে যুবকরা  নিজেদের অর্থায়নে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটা নির্মাণ করেছে।
স্থানীয় কৃষক মুক্তার হোসেন মিয়াজী  জানান, আমাদের এই সড়কটা খুব খারাপ। কৃষকরা বিল থেকে ধান কেটে গাড়িতে আনার সময় বিপদে পড়ে। কাদা পানিতে গাড়ি নষ্ট হয়। আবার নিচু বিলের রাস্তা থেকে উঁচু মূল সড়কে উঠাতে পারে না। আশপাশের মানুষ ডেকে এনে সবাই মিলে গাড়ি ঠেলে উপরে তুলতে হয়। এ সময় কেউ বা আহত হয়। এই রকম কষ্ট হয়। দেখলাম যখন কোনো জায়গা থেকে কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না, তখন গ্রামের মানুষ সবাই পরামর্শ করে নিজেরাই টাকা দিয়ে রাস্তাটি মেরামত করছি।
  স্থানীয়  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহীদ উল্লাহ প্রধান  জানান,রাস্তাটি বেহাল অবস্থা ছিল।অতিবৃষ্টির কারনে পানি জমে গর্ত ও কাঁদায় পরিনত হয়েছে এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।বরাদ্দ না থাকায় কাজটি করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় যুবকদের নিজ অর্থায়নে স্বেচ্ছাশ্রমের  উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।