ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেরা ১০০ বন্দরে চট্টগ্রাম এবারও ৬৮তম

বিশ্বের ব্যস্ততম ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকায় টানা দ্বিতীয় বছর ৬৮তম অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহন ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক তালিকায় অবস্থানের উন্নতি হয়নি। একই সময় শীর্ষ ১০০ বন্দরের সম্মিলিত কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

লন্ডনভিত্তিক শিপিংবিষয়ক সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট ২০২৫ সালের কনটেইনার পরিবহনের তথ্যের ভিত্তিতে ‘ওয়ান হানড্রেড পোর্টস ২০২৬’ শীর্ষক তালিকাটি প্রকাশ করেছে।

বন্দরের হিসাবে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহন হয়েছে ৩৪ লাখ ৯ হাজার (প্রতিটি কনটেইনার ২০ ফুট লম্বা)। ২০২৪ সালে পরিবহন হয়েছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার একক কনটেইনার। সেই হিসাবে কনটেইনার পরিবহন ৪ শতাংশ বেড়েছে। বাস্তবতা হলো, এই সময় বিশ্বের সেরা ১০০ বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধির হার কম।

লয়েডস লিস্টের প্রকাশনায় চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকলেও এপিএম টার্মিনালস, এমএসসি ও রেড সি গেটওয়ের বড় বিনিয়োগ বাংলাদেশের প্রধান কনটেইনার বন্দরের ভবিষ্যৎ চিত্র বদলে দিচ্ছে।

কোন বন্দর কত কনটেইনার পরিবহন করেছে, সেই তুলনা করে লয়েডস লিস্টের এই ক্রমতালিকা তৈরি করা হয়। এ তালিকা দিয়ে বন্দরে সেবার মান বিচার করা হয় না। তবে কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা দিয়ে অঞ্চলভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারণা পাওয়া যায়। কেননা, কনটেইনারে শিল্পের কাঁচামাল ও মূল্যবান পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়মিতভাবেই বিশ্বের শীর্ষ ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকায় জায়গা পাচ্ছে। দেশের সমুদ্রপথে যত কনটেইনার পরিবহন করা হয়, তার প্রায় ৯৯ শতাংশই হয় এই বন্দর দিয়ে। বাকি প্রায় ১ শতাংশ পরিবহন করা হয় মোংলা বন্দর দিয়ে।

কনটেইনারের সংখ্যায় সেরা বন্দরের তালিকা প্রথম প্রকাশ করে কার্গো সিস্টেমস নামের সংস্থা। এরপর কনটেইনারাইজেশন ইন্টারন্যাশনাল ও সর্বশেষ এক দশকের বেশি সময় ধরে লয়েডস লিস্ট এই তালিকা প্রকাশ করে আসছে। ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৯৫তম।

গত এক দশকে লয়েডস লিস্টের ক্রমতালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে ভালো অবস্থান ছিল ৫৮তম। ২০২০ সালে প্রকাশিত তালিকায় এই অবস্থানে উঠেছিল চট্টগ্রাম। এই সময় চট্টগ্রাম বন্দর ৩৭ ধাপ এগোলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেই অগ্রগতি ধরে রাখা যায়নি। যদিও এই সময় কনটেইনার পরিবহনের পরিমাণ বেড়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশই হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রতিবছর কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে। এখন জ্বালানিসংকট কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি বন্দর ও কাস্টমসের সেবা বাড়ানো গেলে এই প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়বে।

আমিরুল হক আরও বলেন, আশার দিক হলো, চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে আবার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। নতুন টার্মিনাল হচ্ছে। এগুলো চালু হলে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে।

চট্টগ্রামের সামনে এখন মূল প্রশ্ন শুধু কনটেইনার পরিবহন বাড়ানো নয়; বরং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী বন্দরগুলোর তুলনায় আরও দ্রুত সক্ষমতা বাড়ানো। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নতুন টার্মিনাল ও বিদেশি অপারেটরদের বিনিয়োগের কল্যাণে চট্টগ্রাম কতটা এগিয়ে যেতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

আরকে/ সাইফ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে জেলা পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

সেরা ১০০ বন্দরে চট্টগ্রাম এবারও ৬৮তম

আপডেট : ১০:২০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বের ব্যস্ততম ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকায় টানা দ্বিতীয় বছর ৬৮তম অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহন ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক তালিকায় অবস্থানের উন্নতি হয়নি। একই সময় শীর্ষ ১০০ বন্দরের সম্মিলিত কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

লন্ডনভিত্তিক শিপিংবিষয়ক সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট ২০২৫ সালের কনটেইনার পরিবহনের তথ্যের ভিত্তিতে ‘ওয়ান হানড্রেড পোর্টস ২০২৬’ শীর্ষক তালিকাটি প্রকাশ করেছে।

বন্দরের হিসাবে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহন হয়েছে ৩৪ লাখ ৯ হাজার (প্রতিটি কনটেইনার ২০ ফুট লম্বা)। ২০২৪ সালে পরিবহন হয়েছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার একক কনটেইনার। সেই হিসাবে কনটেইনার পরিবহন ৪ শতাংশ বেড়েছে। বাস্তবতা হলো, এই সময় বিশ্বের সেরা ১০০ বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধির হার কম।

লয়েডস লিস্টের প্রকাশনায় চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকলেও এপিএম টার্মিনালস, এমএসসি ও রেড সি গেটওয়ের বড় বিনিয়োগ বাংলাদেশের প্রধান কনটেইনার বন্দরের ভবিষ্যৎ চিত্র বদলে দিচ্ছে।

কোন বন্দর কত কনটেইনার পরিবহন করেছে, সেই তুলনা করে লয়েডস লিস্টের এই ক্রমতালিকা তৈরি করা হয়। এ তালিকা দিয়ে বন্দরে সেবার মান বিচার করা হয় না। তবে কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা দিয়ে অঞ্চলভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারণা পাওয়া যায়। কেননা, কনটেইনারে শিল্পের কাঁচামাল ও মূল্যবান পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়মিতভাবেই বিশ্বের শীর্ষ ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকায় জায়গা পাচ্ছে। দেশের সমুদ্রপথে যত কনটেইনার পরিবহন করা হয়, তার প্রায় ৯৯ শতাংশই হয় এই বন্দর দিয়ে। বাকি প্রায় ১ শতাংশ পরিবহন করা হয় মোংলা বন্দর দিয়ে।

কনটেইনারের সংখ্যায় সেরা বন্দরের তালিকা প্রথম প্রকাশ করে কার্গো সিস্টেমস নামের সংস্থা। এরপর কনটেইনারাইজেশন ইন্টারন্যাশনাল ও সর্বশেষ এক দশকের বেশি সময় ধরে লয়েডস লিস্ট এই তালিকা প্রকাশ করে আসছে। ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৯৫তম।

গত এক দশকে লয়েডস লিস্টের ক্রমতালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে ভালো অবস্থান ছিল ৫৮তম। ২০২০ সালে প্রকাশিত তালিকায় এই অবস্থানে উঠেছিল চট্টগ্রাম। এই সময় চট্টগ্রাম বন্দর ৩৭ ধাপ এগোলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেই অগ্রগতি ধরে রাখা যায়নি। যদিও এই সময় কনটেইনার পরিবহনের পরিমাণ বেড়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশই হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রতিবছর কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে। এখন জ্বালানিসংকট কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি বন্দর ও কাস্টমসের সেবা বাড়ানো গেলে এই প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়বে।

আমিরুল হক আরও বলেন, আশার দিক হলো, চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে আবার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। নতুন টার্মিনাল হচ্ছে। এগুলো চালু হলে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে।

চট্টগ্রামের সামনে এখন মূল প্রশ্ন শুধু কনটেইনার পরিবহন বাড়ানো নয়; বরং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী বন্দরগুলোর তুলনায় আরও দ্রুত সক্ষমতা বাড়ানো। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নতুন টার্মিনাল ও বিদেশি অপারেটরদের বিনিয়োগের কল্যাণে চট্টগ্রাম কতটা এগিয়ে যেতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

আরকে/ সাইফ