ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরে জোরপূর্বক জমি দখল: ভেক্যু দিয়ে মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের ইছাখালী গ্ৰামে জোরপূর্বক জমি দখল করে রাতের আঁধারে ভেক্যু দিয়ে মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। (৩১ আগস্ট) ইছাখালী গ্ৰামের সফিকুর রহমানের ছেলে ফয়েজ আহম্মেদ বাদি হয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নিবার্হী অফিসার কার্যালয়ে মৌটুপী গ্ৰামের ওহিদুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বিরোধপূর্ণ জমিতে মাটি কাটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ফয়েজ আহম্মেদ জানান, নিজ জমি পিতৃসূত্রে জমি যার দাগ নং সাবেক (২০৩) বর্তমান দাগ ৩৫৯, খতিয়ান নং-৩২২ যা আমাদের নিজস্ব, পৈত্রিক জমি। আদাদের জমির পরিমান ২৭.৫০ শতাংশ ভূমি। কিন্তু বিগত ৪ বছর যাবৎ মোঃ তারিকুল ইসলাম জোরপূর্বক প্রথমে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে নেয়। এ জমি নিয়ে বিএস রেকর্ড সংশোধন মামলা করা হয়। ঐ মামলার রায় ফয়েজ আহম্মেদ এর পক্ষে আসে। পরবর্তীতে এ রায়ের বিপক্ষে আপিল মোকদ্দমা দায়ের করা হয়।

জানা যায়, এই জমির প্রদান মালিক আঃ আজিজ জমাদার ও কালু জমাদার দুই ভাই। কিন্তু আঃ আজিজ জমাদারের নাম গোপন রেখে কালু জামাদারের ওয়ারিশগনদের থেকে ভুয়া দলিল করে নিয়ে আজিজ জমাদারের ওয়ারিশগনকে জোরপূর্বক ভাবে হয়রানি করে এবং বিভিন্ন মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা জড়ায়। গত ২৫/০৩/২০২৫খ্রিঃ তারিখে ১৪৫ মামলার তদন্ত চলাকালীন সার্ভে অফিসার (ভূমি) এর সামনে অতর্কিত হামলা করে। বিভিন্ন মিথ্যা মামলা করে এবং হুমকি দামকি প্রদান করে। এর পরে কয়েক মাস পরে গত ১৭/০৮/২০২৬খিঃ তারিখ তারা ড্রেজার মেশিন দ্বারা মাটি খনন করলে আমি নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ পত্র দিলে ১৮/০৮/২০২৬ইং তারিখে নির্বাহী অফিসার সরোজমিনে এসে তা তদন্ত করেন যা আপনার অবগত। কিন্তু তার কিছুদিন পর ৩০/০৮/২০২৬ইং তারিখে রাতে তারা আবার ভেক্যু দিয়ে মাটি খনন করা বন্ধ কর পুলিশ। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর তারা আবার মাটি খনন করা শুরু করে।

১৯৫৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সালে সম্পাদিত ৪৫৩৫ নং দলিলমূলে এসে রেকর্ডীয় মালিক হতে আব্দুল আজিজ জমাদার ও কালু জমাদার সাবেক ২০৩ হাল বি.এস ৩৫৯ দাগে ০.৬৫০০ একর জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে উক্ত দাগের ০.১০০০ একর জমি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে অবশিষ্ট ০.৫৫০০ একর জমি উভয় মালিকের নামে বি.এস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সমীচিন হলেও হাল জরিপে শুধুমাত্র কালু জমাদার এর ওয়ারিশগণের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। প্রতিপক্ষগণ ১ম দলিল গ্রহীতা আব্দুল আজিজ এর ওয়ারিশ হওয়ায় সংক্ষুব্ধ হয়ে মালিকানা দাবী করে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত মতলব, চাঁদপুর দেওয়ানী ২২৩/২০২৩ মোকাদ্দমা দায়ের করে এবং ১৩/০৮/২০২৪ তারিখে একতরফাসূত্রে বর্ণিত বি.এস ৩২২ নং খতিয়ানভুক্ত সাবেক ২০৩ হাল ৩৫৯ দাগের মোট ০.৫৫০০ একর জমির মধ্যে ০.২৮২৫ একর ভূমিতে আদালতের রায় ডিক্রিমূলে মালিকানা স্বত্ব লাভ করে।

ওই মোকাদ্দমা সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপ্রত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় অত্র নালিশী জমি নিয়ে বি.এস রেকর্ডীয় মালিক মোঃ সহিদ উল্যা এর ছেলে মেজবাহ উদ্দিন প্রার্থীপক্ষ হয়ে অত্র মোকাদ্দমার বাদী মোঃ তারিকুল ইসলাম ও ৩ জন রেকর্ডীয় মালিক (নূরজাহান, হাজেরা বেগম ও মাসুদা বেগম) কে প্রতিপক্ষ করে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চাঁদপুর এ ১৫৪৫/২০২৪ মোকদ্দমা দায়ের করেন যা বর্তমানে চলমান আছে। এছাড়া রেকর্ডীয় মালিক মোঃ সহিদ উল্যা বাদী হয়ে ০১/০৭/২০১৯ তারিখে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত, চাঁদপুরে অপরাপর ৩ জন রেকর্ডীয় মালিক (নূরজাহান, হাজেরা বেগম ও মাসুদা বেগম) কে বিবাদী করে ২৮/০২/২০১৮ তারিখের ১০০৫ নং সাফ কবলা দলিলকে অযোগ্য অবাধ্যময় মর্মে ঘোষণা করার প্রার্থনায় ৭৯/২০১৯ নং দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করেন যা অদ্যাবদি চলমান আছে। উল্লেখ্য যে, বর্ণিত সাফ কবলা দলিল নং ১০০৫ মূলে নুরজাহান (দলিলদাতা) হতে হাজেরা বেগম ও মাসুদা বেগম (দলিল গ্রহীতা) উক্ত ৩৫৯ দাগে ০.৫৫০০ একর সম্পত্তি ক্রয় করে। পরবর্তীতে সমুদয় সম্পত্তি বিভিন্ন দলিল মূলে অত্র মোকদ্দমার প্রার্থীপক্ষ মোঃ তারিকুল ইসলাম ক্রয় করেন।
তারিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে‌ না‌‌ পারায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে জেলা পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

মতলব উত্তরে জোরপূর্বক জমি দখল: ভেক্যু দিয়ে মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ

আপডেট : ০৭:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের ইছাখালী গ্ৰামে জোরপূর্বক জমি দখল করে রাতের আঁধারে ভেক্যু দিয়ে মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। (৩১ আগস্ট) ইছাখালী গ্ৰামের সফিকুর রহমানের ছেলে ফয়েজ আহম্মেদ বাদি হয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নিবার্হী অফিসার কার্যালয়ে মৌটুপী গ্ৰামের ওহিদুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বিরোধপূর্ণ জমিতে মাটি কাটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ফয়েজ আহম্মেদ জানান, নিজ জমি পিতৃসূত্রে জমি যার দাগ নং সাবেক (২০৩) বর্তমান দাগ ৩৫৯, খতিয়ান নং-৩২২ যা আমাদের নিজস্ব, পৈত্রিক জমি। আদাদের জমির পরিমান ২৭.৫০ শতাংশ ভূমি। কিন্তু বিগত ৪ বছর যাবৎ মোঃ তারিকুল ইসলাম জোরপূর্বক প্রথমে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে নেয়। এ জমি নিয়ে বিএস রেকর্ড সংশোধন মামলা করা হয়। ঐ মামলার রায় ফয়েজ আহম্মেদ এর পক্ষে আসে। পরবর্তীতে এ রায়ের বিপক্ষে আপিল মোকদ্দমা দায়ের করা হয়।

জানা যায়, এই জমির প্রদান মালিক আঃ আজিজ জমাদার ও কালু জমাদার দুই ভাই। কিন্তু আঃ আজিজ জমাদারের নাম গোপন রেখে কালু জামাদারের ওয়ারিশগনদের থেকে ভুয়া দলিল করে নিয়ে আজিজ জমাদারের ওয়ারিশগনকে জোরপূর্বক ভাবে হয়রানি করে এবং বিভিন্ন মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা জড়ায়। গত ২৫/০৩/২০২৫খ্রিঃ তারিখে ১৪৫ মামলার তদন্ত চলাকালীন সার্ভে অফিসার (ভূমি) এর সামনে অতর্কিত হামলা করে। বিভিন্ন মিথ্যা মামলা করে এবং হুমকি দামকি প্রদান করে। এর পরে কয়েক মাস পরে গত ১৭/০৮/২০২৬খিঃ তারিখ তারা ড্রেজার মেশিন দ্বারা মাটি খনন করলে আমি নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ পত্র দিলে ১৮/০৮/২০২৬ইং তারিখে নির্বাহী অফিসার সরোজমিনে এসে তা তদন্ত করেন যা আপনার অবগত। কিন্তু তার কিছুদিন পর ৩০/০৮/২০২৬ইং তারিখে রাতে তারা আবার ভেক্যু দিয়ে মাটি খনন করা বন্ধ কর পুলিশ। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর তারা আবার মাটি খনন করা শুরু করে।

১৯৫৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সালে সম্পাদিত ৪৫৩৫ নং দলিলমূলে এসে রেকর্ডীয় মালিক হতে আব্দুল আজিজ জমাদার ও কালু জমাদার সাবেক ২০৩ হাল বি.এস ৩৫৯ দাগে ০.৬৫০০ একর জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে উক্ত দাগের ০.১০০০ একর জমি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে অবশিষ্ট ০.৫৫০০ একর জমি উভয় মালিকের নামে বি.এস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সমীচিন হলেও হাল জরিপে শুধুমাত্র কালু জমাদার এর ওয়ারিশগণের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। প্রতিপক্ষগণ ১ম দলিল গ্রহীতা আব্দুল আজিজ এর ওয়ারিশ হওয়ায় সংক্ষুব্ধ হয়ে মালিকানা দাবী করে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত মতলব, চাঁদপুর দেওয়ানী ২২৩/২০২৩ মোকাদ্দমা দায়ের করে এবং ১৩/০৮/২০২৪ তারিখে একতরফাসূত্রে বর্ণিত বি.এস ৩২২ নং খতিয়ানভুক্ত সাবেক ২০৩ হাল ৩৫৯ দাগের মোট ০.৫৫০০ একর জমির মধ্যে ০.২৮২৫ একর ভূমিতে আদালতের রায় ডিক্রিমূলে মালিকানা স্বত্ব লাভ করে।

ওই মোকাদ্দমা সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপ্রত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় অত্র নালিশী জমি নিয়ে বি.এস রেকর্ডীয় মালিক মোঃ সহিদ উল্যা এর ছেলে মেজবাহ উদ্দিন প্রার্থীপক্ষ হয়ে অত্র মোকাদ্দমার বাদী মোঃ তারিকুল ইসলাম ও ৩ জন রেকর্ডীয় মালিক (নূরজাহান, হাজেরা বেগম ও মাসুদা বেগম) কে প্রতিপক্ষ করে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চাঁদপুর এ ১৫৪৫/২০২৪ মোকদ্দমা দায়ের করেন যা বর্তমানে চলমান আছে। এছাড়া রেকর্ডীয় মালিক মোঃ সহিদ উল্যা বাদী হয়ে ০১/০৭/২০১৯ তারিখে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত, চাঁদপুরে অপরাপর ৩ জন রেকর্ডীয় মালিক (নূরজাহান, হাজেরা বেগম ও মাসুদা বেগম) কে বিবাদী করে ২৮/০২/২০১৮ তারিখের ১০০৫ নং সাফ কবলা দলিলকে অযোগ্য অবাধ্যময় মর্মে ঘোষণা করার প্রার্থনায় ৭৯/২০১৯ নং দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করেন যা অদ্যাবদি চলমান আছে। উল্লেখ্য যে, বর্ণিত সাফ কবলা দলিল নং ১০০৫ মূলে নুরজাহান (দলিলদাতা) হতে হাজেরা বেগম ও মাসুদা বেগম (দলিল গ্রহীতা) উক্ত ৩৫৯ দাগে ০.৫৫০০ একর সম্পত্তি ক্রয় করে। পরবর্তীতে সমুদয় সম্পত্তি বিভিন্ন দলিল মূলে অত্র মোকদ্দমার প্রার্থীপক্ষ মোঃ তারিকুল ইসলাম ক্রয় করেন।
তারিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে‌ না‌‌ পারায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।