চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খাল খনন, পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রমে নতুন প্রাণ ফিরেছে আটটি গুরুত্বপূর্ণ খালে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জেলার পাঁচটি উপজেলায় বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পে নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কম অর্থ ব্যয়ে কাজ শেষ হওয়ায় সরকারি কোষাগারে সাশ্রয় হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ, হাইমচর, মতলব উত্তর ও শাহরাস্তি উপজেলার আটটি খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ১১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে বরাদ্দের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অব্যয়িত রয়েছে।
খালগুলো পুনঃখনন ও সংস্কারের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুর সদর:
বালিয়া বাজার সংলগ্ন ব্রিজ থেকে জনতা বাজার হয়ে নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের ব্রিজ পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পে ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ২৩৭ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ ৮২ হাজার ৬৩৮ টাকা।
জনতা বাজার থেকে হরিপুর বাজার পর্যন্ত প্রধান খাল খনন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ ৮২ হাজার ৬৩৭ টাকা।
এ ছাড়া বিশ্ব খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ১ কোটি ৫ হাজার ২৩ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৯৬ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকা ২৩ পয়সা।
ফরিদগঞ্জ:
পূর্ব জয়শ্রী ব্রিজ থেকে সরকারদের ব্রিজ পর্যন্ত এমবাড়ি খালের পশ্চিম অংশের কাজে ১ কোটি ২৯ লাখ ৩৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৭ টাকা।
হাইমচর:
দক্ষিণ চরভাঙ্গা দেওয়ান বাড়ি থেকে চরপোড়ামুখী রহিম মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৫১ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৫ টাকা।
মতলব উত্তর:
কালীপুর পাম্প হাউস থেকে পাঠান বাজার-দাস বাজার হয়ে ব্রাহ্মণচক পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৯ হাজার ৬৪৩ টাকা।
শাহরাস্তি:
ডাকাতিয়া নদীর খোর্দ্দ থেকে মোড়াগাঁও বটতলা শৈলখালী খাল খনন প্রকল্পে ৩ কোটি ৯ লাখ ২ হাজার ৪৭০ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪১৩ টাকা।
একই উপজেলায় নাওরা মেহের গোদা খাল খনন প্রকল্পে ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৪ টাকায় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালগুলো পুনঃখনন ও সংস্কারের ফলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা এসব খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। এতে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান খান জানান, সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজ শেষে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “খালগুলোর খনন ও পুনঃখননের ফলে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন ও সেচসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”




















