ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে ‘রাজনৈতিক তালাক বাকযুদ্ধের  শব্দের ব্যবহার নিয়ে জনমনে প্রতিক্রিয়া

  • জসিম উদ্দিন
  • আপডেট : ০৬:৫৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 38
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে ‘তালাক’বাকযুদ্ধের  শব্দের ব্যবহার নিয়ে জনমনে প্রতিক্রিয়া। দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের ‘তালাকপ্রাপ্ত নারী’ এবং ধানের শীষের প্রার্থীকে ‘জনগণের ভোটে তালাকপ্রাপ্ত’ বলে দুই পক্ষের পালটাপালটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের এমন আক্রমণাত্মক ও মুখরোচক মন্তব্যের কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক হাস্যরস ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ববিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ।
দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন না মেনে বিদ্রোহী প্রার্থী হন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ হান্নান। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীসহ বেশ কয়েকজনকে বিএনপি দল থেকে বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি স্থগিত করা হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে এম এ হান্নান বিজয়ী হন।
নির্বাচনের পর ফরিদগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি কার্যত তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষ ধানের শীষের প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদের পক্ষে, আরেক পক্ষ নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নানের পক্ষে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে রয়েছে তৃতীয় পক্ষ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী ও এম এ হান্নানের মধ্যকার দূরত্ব কমে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে দল থেকে বহিষ্কৃত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীদের নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগস্ট বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে দুপক্ষের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৯ আগস্ট ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতি সভায় উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নাছির পাটওয়ারী মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন।
নাছির পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃতরা তালাকপ্রাপ্ত নারীর মতো। তিনি (মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী) কীভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়ে তালাকপ্রাপ্ত ও দলের বিরোধিতাকারীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করেন?
এর পালটা জবাব দেন মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিজের অনুসারী, দল থেকে বহিষ্কৃত এবং ধানের শীষের বিরোধিতাকারীদের নিয়ে আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি।
নাছির পাটওয়ারীকে ‘টুপি ছাড়া হুজুর’ আখ্যা দিয়ে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষের প্রার্থী লায়ন হারুনকে ভোটের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে। তারা কীভাবে ভোটের মাধ্যমে তালাক পাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে রাজনীতি করছেন?
দুপক্ষের নেতাদের এমন পালটাপালটি বক্তব্যে রাজনৈতিক সমালোচনা বা বৈবাহিক বিচ্ছেদের মত স্পর্শকাতর পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও আলোচনা তৈরি হয় । অনেকে এটিকে সস্তা ও নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এরই মধ্যে যেকোনো সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে। নতুন কমিটি ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এর মধ্যেই ‘রাজনৈতিক তালাক’ বিতর্ক স্থানীয় বিএনপির কোন্দল আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, মূলত ফরিদগঞ্জের বিএনপির রাজনীতির কোন্দল তৈরি করে রেখেছে দলের একটি অংশ। বিষয়টি প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে সবাই জানেন।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে জেলা পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

ফরিদগঞ্জে ‘রাজনৈতিক তালাক বাকযুদ্ধের  শব্দের ব্যবহার নিয়ে জনমনে প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ০৬:৫৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে ‘তালাক’বাকযুদ্ধের  শব্দের ব্যবহার নিয়ে জনমনে প্রতিক্রিয়া। দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের ‘তালাকপ্রাপ্ত নারী’ এবং ধানের শীষের প্রার্থীকে ‘জনগণের ভোটে তালাকপ্রাপ্ত’ বলে দুই পক্ষের পালটাপালটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের এমন আক্রমণাত্মক ও মুখরোচক মন্তব্যের কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক হাস্যরস ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ববিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ।
দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন না মেনে বিদ্রোহী প্রার্থী হন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ হান্নান। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীসহ বেশ কয়েকজনকে বিএনপি দল থেকে বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি স্থগিত করা হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে এম এ হান্নান বিজয়ী হন।
নির্বাচনের পর ফরিদগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি কার্যত তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষ ধানের শীষের প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদের পক্ষে, আরেক পক্ষ নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নানের পক্ষে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে রয়েছে তৃতীয় পক্ষ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী ও এম এ হান্নানের মধ্যকার দূরত্ব কমে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে দল থেকে বহিষ্কৃত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীদের নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগস্ট বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে দুপক্ষের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৯ আগস্ট ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতি সভায় উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নাছির পাটওয়ারী মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন।
নাছির পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃতরা তালাকপ্রাপ্ত নারীর মতো। তিনি (মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী) কীভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়ে তালাকপ্রাপ্ত ও দলের বিরোধিতাকারীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করেন?
এর পালটা জবাব দেন মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিজের অনুসারী, দল থেকে বহিষ্কৃত এবং ধানের শীষের বিরোধিতাকারীদের নিয়ে আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি।
নাছির পাটওয়ারীকে ‘টুপি ছাড়া হুজুর’ আখ্যা দিয়ে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষের প্রার্থী লায়ন হারুনকে ভোটের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে। তারা কীভাবে ভোটের মাধ্যমে তালাক পাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে রাজনীতি করছেন?
দুপক্ষের নেতাদের এমন পালটাপালটি বক্তব্যে রাজনৈতিক সমালোচনা বা বৈবাহিক বিচ্ছেদের মত স্পর্শকাতর পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও আলোচনা তৈরি হয় । অনেকে এটিকে সস্তা ও নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এরই মধ্যে যেকোনো সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে। নতুন কমিটি ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এর মধ্যেই ‘রাজনৈতিক তালাক’ বিতর্ক স্থানীয় বিএনপির কোন্দল আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, মূলত ফরিদগঞ্জের বিএনপির রাজনীতির কোন্দল তৈরি করে রেখেছে দলের একটি অংশ। বিষয়টি প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে সবাই জানেন।