ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গু*লি*তে প্রবাসী ব্যবসায়ী জামাল হোসেন নি*হ*ত

 

 

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাই কান্দি গ্রামের মো. জামাল হোসেন (জামাল মিয়া) নিহত হয়েছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজের পরিচালিত ভ্যারাইটি সুপারশপে হামলার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় দোকানে কর্মরত এক কর্মচারীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রায় ৪-৫ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান জামাল হোসেন। সেখানে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে একটি ভ্যারাইটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নিজে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি একজন কর্মচারী রেখে দোকানটি পরিচালনা করে আসছিলেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একদল সন্ত্রাসী তার দোকানে হামলা চালিয়ে গুলি করে। এতে জামাল হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই ঘটনায় দোকানে থাকা এক কর্মচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

নিহত জামাল হোসেনের পরিবারে রয়েছেন বাবা মো. ছিডু মিয়া ব্যাপারী, মা খুকুমণি, স্ত্রী মাজেদা বেগম এবং তিন সন্তান। তার বড় ছেলে বায়েজিদের বয়স ৮ বছর, মেয়ে সিনথিয়া ৩ বছর এবং ছোট মেয়ে সামিরা আক্তারের বয়স ২ বছর।

ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত বাবা মো. ছিডু মিয়া ব্যাপারী বলেন, ছেলের মৃত্যুতে তার পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত জামাল হোসেনের মরদেহ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে এনে নিজ গ্রামের বাড়ি সিপাই কান্দিতে দাফনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। পাশাপাশি মরদেহ দেশে আনা, দাফন এবং পরিবারের জন্য প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

শোকাহত বাবা বলেন, “আমার ছেলেকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। ছোট ছোট সন্তানগুলো এখন কাকে বাবা বলে ডাকবে? বাবার আদর, ভালোবাসা ও সান্ত্বনা থেকে তারা চিরদিনের জন্য বঞ্চিত হলো।”

তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রচলিত আইন অনুযায়ী জামাল হোসেনকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে জামাল হোসেনের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর সিপাই কান্দিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক ও নিস্তব্ধতা।

জামাল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে এনে ধর্মীয় মর্যাদায় দাফনের পাশাপাশি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গু*লি*তে প্রবাসী ব্যবসায়ী জামাল হোসেন নি*হ*ত

আপডেট : ০৩:৪২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাই কান্দি গ্রামের মো. জামাল হোসেন (জামাল মিয়া) নিহত হয়েছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজের পরিচালিত ভ্যারাইটি সুপারশপে হামলার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় দোকানে কর্মরত এক কর্মচারীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রায় ৪-৫ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান জামাল হোসেন। সেখানে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে একটি ভ্যারাইটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নিজে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি একজন কর্মচারী রেখে দোকানটি পরিচালনা করে আসছিলেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একদল সন্ত্রাসী তার দোকানে হামলা চালিয়ে গুলি করে। এতে জামাল হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই ঘটনায় দোকানে থাকা এক কর্মচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

নিহত জামাল হোসেনের পরিবারে রয়েছেন বাবা মো. ছিডু মিয়া ব্যাপারী, মা খুকুমণি, স্ত্রী মাজেদা বেগম এবং তিন সন্তান। তার বড় ছেলে বায়েজিদের বয়স ৮ বছর, মেয়ে সিনথিয়া ৩ বছর এবং ছোট মেয়ে সামিরা আক্তারের বয়স ২ বছর।

ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত বাবা মো. ছিডু মিয়া ব্যাপারী বলেন, ছেলের মৃত্যুতে তার পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত জামাল হোসেনের মরদেহ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে এনে নিজ গ্রামের বাড়ি সিপাই কান্দিতে দাফনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। পাশাপাশি মরদেহ দেশে আনা, দাফন এবং পরিবারের জন্য প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

শোকাহত বাবা বলেন, “আমার ছেলেকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। ছোট ছোট সন্তানগুলো এখন কাকে বাবা বলে ডাকবে? বাবার আদর, ভালোবাসা ও সান্ত্বনা থেকে তারা চিরদিনের জন্য বঞ্চিত হলো।”

তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রচলিত আইন অনুযায়ী জামাল হোসেনকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে জামাল হোসেনের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর সিপাই কান্দিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক ও নিস্তব্ধতা।

জামাল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে এনে ধর্মীয় মর্যাদায় দাফনের পাশাপাশি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।