চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাছনমেঘ গ্রামে শতবর্ষী এক বৃদ্ধার জীবন মানেই বার্ধক্যের ভার , নিঃসঙ্গতা অভাব অনটন আর রাতের পর রাত পার করা এক নির্ঘুম ও যন্ত্রণাদায়ক সময়। অভাব ও অবহেলা বয়সের ভারে নুন্জে পড়া শতবর্ষী নারী ছালেহার জীবনে দেখা যায় নিয়মিত খাবার জোটে না ।ঠিকমতো মাথা গুজার এক টুকরো নিরাপদ আশ্রয়ও নাই তার।
আপনজন হীন ও সহায়সম্বলহীন অবস্থায় প্রতিবেশীদের সাহায্য কিংবা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে ছালেহার। বার্ধক্যের শারীরিক অসুস্থতা আর দুশ্চিন্তায় চোখের পাতা এক করতে পারেনা সে ।প্রিয়জন হারানোর স্মৃতি ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এবং শারীরিক যন্ত্রণায় তার জীবনের শেষ সময়গুলো কাটে চরম উৎকন্ঠা ও নির্ঘুম অবস্থায়।
চোখে-মুখে অসহায়ত্বের ছাপ নিয়ে বৃদ্ধা ছালেহা বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর আগে স্বামী মারা গিয়েছে তারপর থেকে আমাকে দেখার কেউ নেই, খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটে, আমার অনেক বয়স হয়েছে। আমাকে দেখার মতো কেউ নেই। দুই ছেলে চার মেয়ে আছে, তারা খোঁজ নেয় না।এ সময় তিনি খাওয়া-পড়াসহ চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তার হাত বাড়াতে অনুরোধ করেন।
সরকারি কোনো অনুদান পান কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক আগে বয়স্ক ভাতা পেতাম , ভাতার বই হারিয়ে যাওয়ার পরে এখন আর তাও পাইনা। পাড়া-প্রতিবেশীরা খাবার দিলে খাই, না দিলে অনাহারে থাকতে হয়।
জীবনের সাথে লড়াই করে বেঁচে আছেন ফরিদগঞ্জের ৪ নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের সাচনমেঘ গ্রামের সরদার বাড়ির মৃত ওয়াব আলী সরদারের স্ত্রী ছালেহা বেগম।তবে দীর্ঘ জীবনের এই পথচলা সুখের নয়; অনাদর, অবহেলা আর দারিদ্র্যই যেন তার নিত্যসঙ্গী।
সরজমিনে গিয়ে দেখা জানা যায়,তার স্বামী মারা গেছেন অনেক বছর আগে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন বিধবা ছালেহা। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় সহায়-সম্বলহীন এই বৃদ্ধার আশ্রয় মিলেছে জীর্ণশীর্ণএক জুবলিঘরে। একটু বৃষ্টি হলেই টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় অন্যের বাড়িতে গিয়ে খাবার চেয়ে খেতেন ছালেহা। কিন্তু বার্ধক্যের ভারে এখন আর দূরে যেতে পারেন না। প্রতিবেশীরাই মাঝে মাঝে খাবার দিয়ে তার পাশে দাঁড়ান। কখনো নিজেই কারো বাড়িতে গিয়ে আহার করেন। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারেন না।উত্তরসূরীদের কেউ তার খোঁজখবর নেন না।
প্রতিবেশী ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমাদের ইউনিয়নে অনেক বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধি রয়েছেন তারা ইচ্ছা করলে এই বৃদ্ধাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে পারতেন কিন্তু তারা এই বৃদ্ধার দিকে কখনোই সুদৃষ্টি দেন নাই।আমরাই যতটুকু পারি তার দেখাশোনা করি। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমাদের আকুল আবেদন তারা যেন এই অসহায় ছালেহার দিকে একটু সুদৃষ্টি দেন।




















