চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ছেংগারচর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে তিন শতাধিক পথ কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস।
ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ, যা মূলত আক্রান্ত কুকুর বা বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। পৌর এলাকায় জলাতঙ্কমুক্ত রাখতে টিকাদানের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও পোস্টারিংসহ নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। টিকা দেয়া শেষ হলে চেনার সুবিধার্থে কুকুরগুলোর শরীরে নির্দিষ্ট রঙ দেয়া হবে।
পৌর প্রশাসক জানান, পরিবেশগত ও আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে কুকুর নিধন সম্ভব নয়। এ কারণে ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জলাতঙ্ক রোগ প্রসঙ্গে পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। তবে সব কুকুরের কামড়েই জলাতঙ্ক হয় না—ভাইরাস বহনকারী কুকুরের ক্ষেত্রেই ঝুঁকি থাকে। তিনি জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, লক্ষ্যহীন দৌড়াদৌড়ি, সবকিছু কামড়ানোর প্রবণতা এবং চলাফেরায় অসুবিধার কথা উল্লেখ করেন। এ ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে সাধারণ মানুষকে ওই কুকুরের কাছ থেকে দূরে থাকার এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
কুকুরের সঙ্গে মানুষের আচরণ সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেন পৌর প্রশাসক। তিনি বলেন, কুকুরও প্রাণী—তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। খাওয়ার সময়, ঘুমের সময় কিংবা বাচ্চাদের দুধ পান করানোর সময় কুকুরকে বিরক্ত করা যাবে না। কুকুর দেখলে দৌড়ানো, পাথর নিক্ষেপ করা বা চোখে চোখ রেখে তাকানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। কোনো কুকুর তেড়ে এলে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে অন্যদিকে তাকানোর কথাও উল্লেখ করেন পৌর প্রশাসক।
ইউএনও আরও বলেন, “জলাতঙ্ক শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। নিয়মিত ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে পোষা কুকুর ও বিড়ালকেও নিরাপদ রাখতে হবে। এ বিষয়ে পৌরবাসীর সচেতন সহযোগিতা ছাড়া আমাদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।”




















