ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ 

  • জসিম উদ্দিন
  • আপডেট : ০৮:১৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 85
চাঁদপুর জেলার প্রবাসী অধ্যুষিত ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক সেবার অন্যতম কেন্দ্র উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। অথচ সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও দলিল লেখকদের অভিযোগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক অভিযোগ করে জানান, প্রতি দলিল সম্পাদনে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১,৮৫০ টাকা থেকে ২,৩৫০ টাকা এবং প্রতি লাখে ৫শত টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হয়।
যা সরকারি নিয়মনীতি বাহিরে। সরকারি নিয়মে সকল টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়ার বিধান থাকলেও  শেষ বিকালে অফিসের  মোহরারদের কাছে  দিনের সম্পাদিত  প্রতি দলিলে স্ব- স্ব দলিল লেখকগন মোহরারের কাছে টাকা দিয়ে আসেন।
 মোহরারের  টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, “এর মধ্যে ১,০০০ টাকা সমিতির ফান্ডে রাখা হয়, বাকি টাকা দলিলের আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে নেওয়া হয়।”
সমিতির টাকা সরকারি বেতনভুক্ত মোহরারের কাছে দৈনিক জমা দিবেন কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরে আমাদের সমিতির ক্যাশিয়ার হিসাব করে টাকা নিয়ে আসে।
এদিকে, ঘুষ বা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন অফিসের মোহরার মামুন। তবে তিনি দাবি করেন, “আগে এই টাকা নেওয়া হতো, গত দুই মাস ধরে তা নেওয়া হচ্ছে না।”
অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ অর্থ বছরে এই অফিসে মোট ১০,৭১৮টি দলিল সম্পাদন করা হয়েছে।  প্রতি দলিলে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের  অভিযোগ সত্য হলে, তবে এই এক বছরে কয়েক কোটি টাকা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরে এভাবে অনিয়ম চললেও যেন দেখার কেউ নেই। প্রবাসী অধ্যুষিত এই জনপদের মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে হয়রানিমুক্ত সেবা চান। সাব-রেজিস্ট্রারের  সামনে দলিল দাতাগন প্রকাশ্যে বাধ্যহয়ে অফিস সহকারীকে টাকা দিতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অফিসের কোথায়ও দলিলের শ্রেণীভেদে  কোষাগারে জমা দেওয়ার তথ্য ব্যানার, ফেস্টুন ও লক্ষ করা যায়নি, যার কারনে দলিল লেখকগন ইচ্ছামত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তথ্যসূত্রে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিতে অফিস ও দলিল লেখকদের একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে।
দলিল লেখক সমিতির কার্যকরি পরিষদের মেয়াদ শেষ হলেও এই সিন্ডিকেট নতুন কমিটি গঠনে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে।
দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সাব- রেজিস্ট্রার তানভীর আলমের কাছে সাংবাদিক পরিচয়ে মোবাইল ফোনে, পরে  সরাসরি  অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে জানতে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
জেলা রেজিস্ট্রার মো: আকবর আলির অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ 

আপডেট : ০৮:১৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদপুর জেলার প্রবাসী অধ্যুষিত ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক সেবার অন্যতম কেন্দ্র উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। অথচ সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও দলিল লেখকদের অভিযোগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক অভিযোগ করে জানান, প্রতি দলিল সম্পাদনে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১,৮৫০ টাকা থেকে ২,৩৫০ টাকা এবং প্রতি লাখে ৫শত টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হয়।
যা সরকারি নিয়মনীতি বাহিরে। সরকারি নিয়মে সকল টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়ার বিধান থাকলেও  শেষ বিকালে অফিসের  মোহরারদের কাছে  দিনের সম্পাদিত  প্রতি দলিলে স্ব- স্ব দলিল লেখকগন মোহরারের কাছে টাকা দিয়ে আসেন।
 মোহরারের  টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, “এর মধ্যে ১,০০০ টাকা সমিতির ফান্ডে রাখা হয়, বাকি টাকা দলিলের আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে নেওয়া হয়।”
সমিতির টাকা সরকারি বেতনভুক্ত মোহরারের কাছে দৈনিক জমা দিবেন কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরে আমাদের সমিতির ক্যাশিয়ার হিসাব করে টাকা নিয়ে আসে।
এদিকে, ঘুষ বা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন অফিসের মোহরার মামুন। তবে তিনি দাবি করেন, “আগে এই টাকা নেওয়া হতো, গত দুই মাস ধরে তা নেওয়া হচ্ছে না।”
অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ অর্থ বছরে এই অফিসে মোট ১০,৭১৮টি দলিল সম্পাদন করা হয়েছে।  প্রতি দলিলে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের  অভিযোগ সত্য হলে, তবে এই এক বছরে কয়েক কোটি টাকা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরে এভাবে অনিয়ম চললেও যেন দেখার কেউ নেই। প্রবাসী অধ্যুষিত এই জনপদের মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে হয়রানিমুক্ত সেবা চান। সাব-রেজিস্ট্রারের  সামনে দলিল দাতাগন প্রকাশ্যে বাধ্যহয়ে অফিস সহকারীকে টাকা দিতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অফিসের কোথায়ও দলিলের শ্রেণীভেদে  কোষাগারে জমা দেওয়ার তথ্য ব্যানার, ফেস্টুন ও লক্ষ করা যায়নি, যার কারনে দলিল লেখকগন ইচ্ছামত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তথ্যসূত্রে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিতে অফিস ও দলিল লেখকদের একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে।
দলিল লেখক সমিতির কার্যকরি পরিষদের মেয়াদ শেষ হলেও এই সিন্ডিকেট নতুন কমিটি গঠনে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে।
দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সাব- রেজিস্ট্রার তানভীর আলমের কাছে সাংবাদিক পরিচয়ে মোবাইল ফোনে, পরে  সরাসরি  অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে জানতে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
জেলা রেজিস্ট্রার মো: আকবর আলির অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।