ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন স্ত্রী, আদালতে আবেগঘন দৃশ্য

দীর্ঘ পাঁচ বছরের তিক্ততা, অভিযোগ আর আইনি লড়াইয়ের শেষ হতে তখন আর মাত্র কয়েক মিনিট। আদালতের এজলাসে সাজানো ছিল চূড়ান্ত বিবাহবিচ্ছেদের কাগজপত্র। সবকিছু যেন বিচ্ছেদের শেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
বিচারক স্বামী সৌরভের কাছে জানতে চাইলেন, তিনি সত্যিই বিবাহবিচ্ছেদ চান কি না। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সৌরভ কোনো অভিযোগ করলেন না, কোনো তর্কেও গেলেন না। শুধু স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।
আর সেই এক টুকরো হাসিই যেন মুহূর্তে বদলে দিল পুরো পরিস্থিতি।
স্ত্রী শিখা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। বিচারকের সামনেই হাতে থাকা ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে ফেলেন তিনি। এরপর ছুটে গিয়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরেন। দীর্ঘদিনের অভিমান, ক্ষোভ আর দূরত্ব যেন মুহূর্তেই অশ্রু আর ভালোবাসায় ভেসে যায়।
ভারতের দিল্লির একটি পারিবারিক আদালতে ঘটে যাওয়া এই মানবিক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, ২০২০ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সৌরভ ও শিখা। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় নানা টানাপোড়েন। একপর্যায়ে সেই বিরোধ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলতে থাকে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা।
এই সময়টাতে শিখার পরিবারের ওপরও পড়ে মামলার আর্থিক চাপ। একপর্যায়ে শিখার বাবা গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়েন। অর্থকষ্টের মধ্যে তিনি একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঠিক সেই কঠিন সময়েই পাশে দাঁড়ান জামাতা সৌরভ।
অতীতের বিরোধ, মামলা কিংবা সম্পর্কের তিক্ততা—কোনো কিছুই তখন তার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। নিজের উদ্যোগ ও খরচে শ্বশুরকে গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে সুস্থ করে তোলেন শ্বশুরকে।
শ্বশুরকে সুস্থ করে তোলার পরদিনই ছিল সৌরভ ও শিখার বিবাহবিচ্ছেদের চূড়ান্ত শুনানি।
আদালতের সেই দিনটিতে সৌরভের আচরণই যেন শিখার মনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের অভিমানকে নাড়িয়ে দেয়। বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে স্বামীর সেই নীরবতা, চোখের ভাষা আর মৃদু হাসি ফিরিয়ে আনে পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি।
শেষ পর্যন্ত যে আদালতে তাদের পাঁচ বছরের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হওয়ার কথা ছিল, সেখানেই ঘটল নতুন এক শুরু।
ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে শিখা যেন জানিয়ে দিলেন—কিছু সম্পর্ক কাগজে শেষ করা গেলেও হৃদয়ের টান এত সহজে শেষ হয় না।
পাঁচ বছরের আইনি লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তে বিচ্ছেদের বদলে ফিরে এলো মিলন। আর সেই মিলনের সাক্ষী হয়ে রইল আদালতের এজলাস।

 

সূত্র – এনডিটিভি

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন স্ত্রী, আদালতে আবেগঘন দৃশ্য

ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন স্ত্রী, আদালতে আবেগঘন দৃশ্য

আপডেট : ০২:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ পাঁচ বছরের তিক্ততা, অভিযোগ আর আইনি লড়াইয়ের শেষ হতে তখন আর মাত্র কয়েক মিনিট। আদালতের এজলাসে সাজানো ছিল চূড়ান্ত বিবাহবিচ্ছেদের কাগজপত্র। সবকিছু যেন বিচ্ছেদের শেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
বিচারক স্বামী সৌরভের কাছে জানতে চাইলেন, তিনি সত্যিই বিবাহবিচ্ছেদ চান কি না। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সৌরভ কোনো অভিযোগ করলেন না, কোনো তর্কেও গেলেন না। শুধু স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।
আর সেই এক টুকরো হাসিই যেন মুহূর্তে বদলে দিল পুরো পরিস্থিতি।
স্ত্রী শিখা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। বিচারকের সামনেই হাতে থাকা ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে ফেলেন তিনি। এরপর ছুটে গিয়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরেন। দীর্ঘদিনের অভিমান, ক্ষোভ আর দূরত্ব যেন মুহূর্তেই অশ্রু আর ভালোবাসায় ভেসে যায়।
ভারতের দিল্লির একটি পারিবারিক আদালতে ঘটে যাওয়া এই মানবিক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, ২০২০ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সৌরভ ও শিখা। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় নানা টানাপোড়েন। একপর্যায়ে সেই বিরোধ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলতে থাকে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা।
এই সময়টাতে শিখার পরিবারের ওপরও পড়ে মামলার আর্থিক চাপ। একপর্যায়ে শিখার বাবা গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়েন। অর্থকষ্টের মধ্যে তিনি একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঠিক সেই কঠিন সময়েই পাশে দাঁড়ান জামাতা সৌরভ।
অতীতের বিরোধ, মামলা কিংবা সম্পর্কের তিক্ততা—কোনো কিছুই তখন তার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। নিজের উদ্যোগ ও খরচে শ্বশুরকে গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে সুস্থ করে তোলেন শ্বশুরকে।
শ্বশুরকে সুস্থ করে তোলার পরদিনই ছিল সৌরভ ও শিখার বিবাহবিচ্ছেদের চূড়ান্ত শুনানি।
আদালতের সেই দিনটিতে সৌরভের আচরণই যেন শিখার মনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের অভিমানকে নাড়িয়ে দেয়। বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে স্বামীর সেই নীরবতা, চোখের ভাষা আর মৃদু হাসি ফিরিয়ে আনে পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি।
শেষ পর্যন্ত যে আদালতে তাদের পাঁচ বছরের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হওয়ার কথা ছিল, সেখানেই ঘটল নতুন এক শুরু।
ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে শিখা যেন জানিয়ে দিলেন—কিছু সম্পর্ক কাগজে শেষ করা গেলেও হৃদয়ের টান এত সহজে শেষ হয় না।
পাঁচ বছরের আইনি লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তে বিচ্ছেদের বদলে ফিরে এলো মিলন। আর সেই মিলনের সাক্ষী হয়ে রইল আদালতের এজলাস।

 

সূত্র – এনডিটিভি