হাজীগঞ্জের সদর ইউনিয়নের উত্তর-পূর্ব সুবিদপুর গ্রামে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসী হাজী আমির হোসেন গং দাবী করছেন, তার বাবা আবদুর রশিদ এ সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। এ সূত্রে তার পরিবারের সদস্যরা এ সম্পত্তি মালিক।
অপর দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী জুলফু মিয়া দাবী করছেন, এ সম্পত্তি তার ক্রয়কৃত। বিষয়টি নিয়ে সোমবার বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় এবং এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একপক্ষ হাজীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রবাসি আমির হোসেন ও তার ভাই সেলিম মিয়া বলেন, মিজান মেম্বার ও তার ভাই দেলাওয়ারের কাছ থেকে আমার বাবা আবদুর রশিদ এই সম্পত্তি কিনেছে। এখানে আমার বাবা’সহ আমরা ৩০/৩৫ বছর দোকান দিয়ে ব্যবসা করেছি। পরবর্তীতে আমরা ভাইয়েরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে জুলফু মিয়া জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
ওই এলাকার অন্ধ ব্যক্তি কবির হোসেন জানান, এখানে রশিদ মিয়ার দোকান ছিল। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এখানে ৩০/৩৫ বছর ব্যবসা করেছেন। এখন শুনি জুলফু মিয়াদের জায়গা।
বিরোধকৃত সম্পত্তির পাশের দোকানদার আব্দুর রহিম জানান, একসময় এখানে রশিদ মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ব্যবসা করেছেন, ভোগ-দখলে ছিলেন বিষয়টি সঠিক। তবে এখন শুনছি, এই জায়গা জুলফু মিয়া কিনেছেন।
এদিকে জুলফু মিয়ার বড় ভাই মনজু মিয়া জানান, রশিদ মিয়া ও তার ছেলেরা এখানে দীর্ঘদিন ব্যবসা করেছে। বিষয়টি মিথ্যা নয়। তবে এখন আমার ছোট ভাই জুলফু মিয়া এই জায়গাটি কিনে ভোগ-দখল করছেন। রশিদ মিয়ার ছেলেরা বলে তারা কিনেছে, এই নিয়ে দুই পরিবারে ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে, তবে এখনো কারো মধ্যে মারামারি হয়নি।
জুলফু মিয়া অভিযোগ করেন, আমরা অসহায়। সেলিম, লিটন, আমির, মিজান, কবিরেরা ৭ ভাই। তারা যেকোন সময় আমাদের উপর হামলা করে, বাড়ী জোরপূর্বক দখল করবে বলে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
সুবিদপুর গ্রামের সাবেক ওয়ার্ড সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, এ জায়গাটি আমি আর আমার ভাই দেলোয়ার হোসেন বিক্রয় করেছিলাম। জায়গার মালিক জুলফু মিয়া, তার দখলেই আছে। তিনি বলেন সবকিছু ঠিক আছে। জুলফু মিয়ার নামে খারিজ, খতিয়ান করা আছে। তবে জমিনের দাগ নিয়ে কিছু সমস্যা আছে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে একজন অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তাদের উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানা আসার বলা হয়েছে। পরবর্তীতে বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









