হাজীগঞ্জে বিরোধকৃত সম্পত্তিতে (ভূমি) রিসিভিার নিয়োগ দিয়েছেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার উজালা রানী চাকমা। উপজেলার বাকিলা বাজারস্থ নিউ সুপার মার্কেটের একাংশের মধ্যে বিরোধৃত ভূমিতে তিনি পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেন।
একই সঙ্গে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে বিরোধকৃত সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় এবং উপজেলা সহকারী কমিশনারকে আগামি ৩০ দিনের মধ্যে নালিশি ভূমিতে দখল বিষয়ে মতামত’সহ প্রতিবেদন দাখিল ও ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৫ (১) এর বিধান মতে বাদী ও বিবাদীকে দলখ সংক্রান্ত বিবৃতি প্রদানের জন্য বলা হয়েছে।
জানা গেছে, ইউনিয়নের সন্না মৌজার বাকিলা বাজারস্থ বাকিলা নিউ সুপার মার্কেটের একাংশ ভূমি নিয়ে ওই ইউনিয়নের আব্দুর রব কাজী ও রুহুল আমিনের সাথে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে হাইকোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে আব্দুর রব কাজীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত বিরোধকৃত সম্পত্তিতে রিসিভার নিয়োগ দেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কাওসার আলম ভুইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত বিরোধকৃত সম্পত্তিতে দোকানঘর বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বাদী আব্দুর রব কাজীর ছেলে হারুন কাজী।
এদিকে বিরোধকৃত সম্পত্তিতে দোকানঘর ও দেশের শীর্ষস্থানীয় অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক এর শাখা কার্যালয় রয়েছে। রিসিভার নিয়োগের ফলে ওইসব দোকানঘর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিপাকে ও ভোগান্তিতে পড়েছেন, প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা ও দোকানের ক্রেতা সাধারণ। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের অনুরোধ জানান সংশ্লিষ্টরা।
বিবাদী রুহুল আমিনের পক্ষে জাহাঙ্গীর পাটওয়ারী সংবাদকর্মীদের জানান, সন্না মৌজার মধ্যে বাকিলা বাজারস্থ ১০৩৪, ১০৩৫ ও ১০৩৬ দাগে ২ শতাংশ ভূমি নিয়ে আব্দুর রব কাজীর সাথে বিরোধ রয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি আমাদের বিরুদ্ধে ৭/৮টি মামলা দিয়েছেন। সবগুলো মামলার রায় আমাদের পক্ষে এসেছে।
তিনি বলেন, সবশেষ একটি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আব্দুর রব কাজী হাইকোর্টে আপিল করেন। যা হাইকোর্টে চলমান রয়েছে। এরমধ্যে বিরোধকৃত সম্পত্তিতে ২০২২ সালে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন, চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আব্দুর রব কাজী ওই নিষেধাজ্ঞার আদেশ গোপন করে এডিএম কোর্টে মামলা করেন।
বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবেলা করা হবে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর পাটওয়ারী আরো বলেন, যেহেতু তথ্য গোপন করে ১৪৫ ধারায় আবেদন করা হয়েছে এবং বিরোধকৃত ভূমিতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও হাইকোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। সেহেতু, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আমরা রিসিভার নিয়োগের আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওসার আলম ভুঁইয়া বলেন, রিসিভার থাকাবস্থায় প্রতিষ্ঠানের মাসিক ভাড়া ওসি হাজীগঞ্জ থানার নামে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। এরপর মামলার রায় যে পক্ষে আসবে, তাকেই সেই ভাড়ার টাকা বুঝিয়ে দেয়া হবে।



















