ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপূজা ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০১:০০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • 25

চাঁদপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডের মুনিরা ভবনে চাঁদপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শরিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিককে হেয় করা কিংবা তার প্রতি অন্যায়-অবিচার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো উসকানি বা দুষ্কৃতকারীদের অপচেষ্টায় যেন উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদার অধিকারী। কাউকে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু হিসেবে আলাদা করে না দেখে সবাইকে সমান মর্যাদায় বিবেচনা করতে হবে। অন্যের প্রতি জুলুম ও অন্যায় করা ইসলামেও নিষিদ্ধ। তাই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে নিয়ে অপপ্রচার, কুৎসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা উদ্বেগজনক। গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্যের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে তা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
তারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্যের মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নিরাপদে নিজের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহাজাহান মিয়া, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, সহসভাপতি নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হোসাইন, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাহবুব আলম ও সদস্যসচিব আমান উল্যাহ পাটওয়ারী।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমেদ, শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট শাহাজাহান খান, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ উদ্দিন পলাশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুফতি সাব্বির আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, সদর উপজেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক কাজী রাসেল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব সামিউর প্রধান, জেলা গণফোরামের সহসভাপতি অধ্যক্ষ মনির চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আশরাফ বাবু, জেলা মহিলা গণফোরামের শিল্পী বেগমসহ বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের

দুর্গাপূজা ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের

আপডেট : ০১:০০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডের মুনিরা ভবনে চাঁদপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শরিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিককে হেয় করা কিংবা তার প্রতি অন্যায়-অবিচার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো উসকানি বা দুষ্কৃতকারীদের অপচেষ্টায় যেন উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদার অধিকারী। কাউকে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু হিসেবে আলাদা করে না দেখে সবাইকে সমান মর্যাদায় বিবেচনা করতে হবে। অন্যের প্রতি জুলুম ও অন্যায় করা ইসলামেও নিষিদ্ধ। তাই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে নিয়ে অপপ্রচার, কুৎসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা উদ্বেগজনক। গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্যের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে তা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
তারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্যের মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নিরাপদে নিজের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহাজাহান মিয়া, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, সহসভাপতি নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হোসাইন, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাহবুব আলম ও সদস্যসচিব আমান উল্যাহ পাটওয়ারী।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমেদ, শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট শাহাজাহান খান, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ উদ্দিন পলাশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুফতি সাব্বির আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, সদর উপজেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক কাজী রাসেল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব সামিউর প্রধান, জেলা গণফোরামের সহসভাপতি অধ্যক্ষ মনির চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আশরাফ বাবু, জেলা মহিলা গণফোরামের শিল্পী বেগমসহ বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।