ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে চার মাসে ৭৮ জন ধ’র্ষ’ণের শিকার, শি’শু ৬৬

  • রিয়াজ শাওন: 
  • আপডেট : ১১:০০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • 239

 

 

চাঁদপুর জেলায় গত চার মাসে ৭৮ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন আরও ১৩ জন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনক। চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলের (ওসিসি) মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার এ চিত্র উঠে এসেছে।

 

ওসিসির তথ্য অনুযায়ী, চার মাসে ধর্ষণের শিকার ৭৮ জনের মধ্যে ৬৬ শিশু ও ১২ জন নারী। মাসভিত্তিক হিসাবে জুনে ১৯ জন, জুলাইয়ে ২০ জন, আগস্টে ১৫ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ধর্ষণচেষ্টার শিকার ১৩ জনের মধ্যে ১২ শিশু ও একজন নারী। এ সময়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি চার শিশুর তথ্য পাওয়া গেছে জুন মাসে।

 

ওসিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন মাসে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৪ জন নারী ও এক শিশু। মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিন নারী ও দুই শিশু। ওই মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন দুই নারী ও ১৭ শিশু। এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন একজন নারী ও চার শিশু।

 

জুলাইয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩ জন নারী। মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নয় নারী ও তিন শিশু। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন পাঁচ নারী ও ১৫ শিশু। একই মাসে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে তিন শিশু; কোনো নারী ধর্ষণচেষ্টার শিকার হওয়ার তথ্য নেই।

 

আগস্টে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২০ নারী ও পাঁচ শিশু। মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন পাঁচ নারী ও এক শিশু। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ছয় নারী ও নয় শিশু। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে আরও চার শিশু।

 

সেপ্টেম্বর মাসে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৪ নারী ও ১৭ শিশু। মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ছয় নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন একজন নারী ও ১৩ শিশু। এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে এক শিশু।

 

সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে মোট ৫২ জন নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন নারী ও ৩১ শিশু। একই প্রতিবেদনে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা মিলিয়ে যৌন সহিংসতার শিকার ১৫ জনের তথ্য রয়েছে।

 

চার মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের বড় অংশই শিশু। মোট ৭৮ জনের মধ্যে ৬৬ জন শিশু, যা প্রায় ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ এ সময়ে ধর্ষণের শিকার প্রতি ১০ জনের মধ্যে আটজনের বেশি শিশু। জুন ও জুলাইয়ে যথাক্রমে ১৭ ও ১৫ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আগস্টে এ সংখ্যা ছিল নয় এবং সেপ্টেম্বরে ১৩।

 

মাসভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০। এরপর আগস্টে ১৫ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪ জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

 

ওসিসির প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী প্রোগ্রামার এস এম তানভীর রশীদ বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট সেল থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করি এবং সমস্ত ডেটা আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।’

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশিং, কাউন্সেলিং ও লিগ্যাল এইডসহ সংশ্লিষ্ট সেবাকেন্দ্র থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

 

চাঁদপুর জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাছিমা আক্তার বলেন, “নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতনের এ চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি খুবই অ্যালার্মিং। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের সবার সতর্ক হওয়া উচিত।”

চাঁদপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূর বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে কাউকে ছাড় দিচ্ছি না । আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতেও আরও এইসব কার্যক্রম শক্তিশালীভাবে চলমান থাকবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ লোকমান হোসেন মুন্সির উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরে চার মাসে ৭৮ জন ধ’র্ষ’ণের শিকার, শি’শু ৬৬

আপডেট : ১১:০০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

 

 

চাঁদপুর জেলায় গত চার মাসে ৭৮ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন আরও ১৩ জন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনক। চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলের (ওসিসি) মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার এ চিত্র উঠে এসেছে।

 

ওসিসির তথ্য অনুযায়ী, চার মাসে ধর্ষণের শিকার ৭৮ জনের মধ্যে ৬৬ শিশু ও ১২ জন নারী। মাসভিত্তিক হিসাবে জুনে ১৯ জন, জুলাইয়ে ২০ জন, আগস্টে ১৫ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ধর্ষণচেষ্টার শিকার ১৩ জনের মধ্যে ১২ শিশু ও একজন নারী। এ সময়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি চার শিশুর তথ্য পাওয়া গেছে জুন মাসে।

 

ওসিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন মাসে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৪ জন নারী ও এক শিশু। মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিন নারী ও দুই শিশু। ওই মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন দুই নারী ও ১৭ শিশু। এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন একজন নারী ও চার শিশু।

 

জুলাইয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩ জন নারী। মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নয় নারী ও তিন শিশু। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন পাঁচ নারী ও ১৫ শিশু। একই মাসে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে তিন শিশু; কোনো নারী ধর্ষণচেষ্টার শিকার হওয়ার তথ্য নেই।

 

আগস্টে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২০ নারী ও পাঁচ শিশু। মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন পাঁচ নারী ও এক শিশু। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ছয় নারী ও নয় শিশু। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে আরও চার শিশু।

 

সেপ্টেম্বর মাসে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৪ নারী ও ১৭ শিশু। মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ছয় নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন একজন নারী ও ১৩ শিশু। এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে এক শিশু।

 

সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে মোট ৫২ জন নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন নারী ও ৩১ শিশু। একই প্রতিবেদনে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা মিলিয়ে যৌন সহিংসতার শিকার ১৫ জনের তথ্য রয়েছে।

 

চার মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের বড় অংশই শিশু। মোট ৭৮ জনের মধ্যে ৬৬ জন শিশু, যা প্রায় ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ এ সময়ে ধর্ষণের শিকার প্রতি ১০ জনের মধ্যে আটজনের বেশি শিশু। জুন ও জুলাইয়ে যথাক্রমে ১৭ ও ১৫ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আগস্টে এ সংখ্যা ছিল নয় এবং সেপ্টেম্বরে ১৩।

 

মাসভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০। এরপর আগস্টে ১৫ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪ জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

 

ওসিসির প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী প্রোগ্রামার এস এম তানভীর রশীদ বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট সেল থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করি এবং সমস্ত ডেটা আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।’

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশিং, কাউন্সেলিং ও লিগ্যাল এইডসহ সংশ্লিষ্ট সেবাকেন্দ্র থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

 

চাঁদপুর জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাছিমা আক্তার বলেন, “নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতনের এ চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি খুবই অ্যালার্মিং। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের সবার সতর্ক হওয়া উচিত।”

চাঁদপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূর বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে কাউকে ছাড় দিচ্ছি না । আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতেও আরও এইসব কার্যক্রম শক্তিশালীভাবে চলমান থাকবে।