ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, দেওয়াল ভাঙ*চুর ও হ*ত্যার হু*মকির অভিযোগ

 

 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক প্রবাসীর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, নির্মাণাধীন দোকানঘরের দেওয়াল ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী মিজানুর রহমান ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবাসী মিজানুর রহমান একই বাড়ির সৈয়দ আহম্মদ মাস্টার, বাহার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার কাউনিয়া গ্রামের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে জানা যায়, মিজানুর রহমান দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসে কর্মরত। বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে তিনি নিজ মালিকানাধীন জমিতে একটি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। স্থানীয় মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে শালিশের মাধ্যমে জমি বুঝে পাওয়ার পরও চাচাতো ভাইরা তাকে জমির ভোগদখলে যেতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, “আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছি। কিন্তু নিজ দেশে এসে নিজের জমিতে ঘর তুলতে গেলেও নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। নির্মাণকাজ চলাকালে প্রতিপক্ষরা এসে দেওয়াল ভেঙে ফেলে এবং আমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও হত্যার হুমকি দেয়। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

মিজানুর রহমানের স্ত্রী শিউলি বেগম জানান, তাদের নানা শ্বশুর রেজিস্ট্রি করে তার স্বামী ও দেবরকে এই জমি দিয়ে গেছেন। দলিল অনুযায়ী তারা জমির মালিক হলেও প্রতিপক্ষ বারবার বাধা সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, “ওরা দাবি করছে জমির মালিক তারা, কিন্তু কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারছে না। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার শালিশ হলেও তারা কোনো সিদ্ধান্ত মানছে না। আমার স্বামী প্রবাস থেকে এসে দোকানঘর নির্মাণ করতে গেলে তার চাচা ও চাচাতো ভাইরা মিলে নির্মাণাধীন দেওয়াল ভেঙে ফেলে এবং আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাহার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত আছি, এ বিষয়ে এখন কথা বলতে পারবো না।” পরে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আপনি অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”

ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী জানান, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোরশেদ বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। তারা আমার কাছ থেকে সময় নেওয়ার পরও দেওয়ালটি ভেঙে দিয়েছে। আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু বসার আগের দিনই তারা এই কাজটি করেছে। যেহেতু তারা স্থানীয় সিদ্ধান্ত মানছে না, তাই ভুক্তভোগী থানার আশ্রয় নিয়েছেন।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘দেশ খেয়েছে খাজুরেরা, নাম পড়েছে হুজুরের’—হাজীগঞ্জে চরমোনাই পীর

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, দেওয়াল ভাঙ*চুর ও হ*ত্যার হু*মকির অভিযোগ

আপডেট : ০৭:৩৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

 

 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক প্রবাসীর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, নির্মাণাধীন দোকানঘরের দেওয়াল ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী মিজানুর রহমান ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবাসী মিজানুর রহমান একই বাড়ির সৈয়দ আহম্মদ মাস্টার, বাহার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার কাউনিয়া গ্রামের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে জানা যায়, মিজানুর রহমান দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসে কর্মরত। বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে তিনি নিজ মালিকানাধীন জমিতে একটি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। স্থানীয় মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে শালিশের মাধ্যমে জমি বুঝে পাওয়ার পরও চাচাতো ভাইরা তাকে জমির ভোগদখলে যেতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, “আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছি। কিন্তু নিজ দেশে এসে নিজের জমিতে ঘর তুলতে গেলেও নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। নির্মাণকাজ চলাকালে প্রতিপক্ষরা এসে দেওয়াল ভেঙে ফেলে এবং আমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও হত্যার হুমকি দেয়। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

মিজানুর রহমানের স্ত্রী শিউলি বেগম জানান, তাদের নানা শ্বশুর রেজিস্ট্রি করে তার স্বামী ও দেবরকে এই জমি দিয়ে গেছেন। দলিল অনুযায়ী তারা জমির মালিক হলেও প্রতিপক্ষ বারবার বাধা সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, “ওরা দাবি করছে জমির মালিক তারা, কিন্তু কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারছে না। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার শালিশ হলেও তারা কোনো সিদ্ধান্ত মানছে না। আমার স্বামী প্রবাস থেকে এসে দোকানঘর নির্মাণ করতে গেলে তার চাচা ও চাচাতো ভাইরা মিলে নির্মাণাধীন দেওয়াল ভেঙে ফেলে এবং আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাহার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত আছি, এ বিষয়ে এখন কথা বলতে পারবো না।” পরে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আপনি অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”

ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী জানান, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোরশেদ বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। তারা আমার কাছ থেকে সময় নেওয়ার পরও দেওয়ালটি ভেঙে দিয়েছে। আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু বসার আগের দিনই তারা এই কাজটি করেছে। যেহেতু তারা স্থানীয় সিদ্ধান্ত মানছে না, তাই ভুক্তভোগী থানার আশ্রয় নিয়েছেন।”