ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানি হামলায় নেতানিয়াহু নিহতের দাবি ইরানি গণমাধ্যমে, নিশ্চিত নয় তথ্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৬:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • 92

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেনগিভর আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা একটি পোস্টের উল্লেখ করা হয়। দাবি করা হয়েছে, পোস্টটি মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে। ওই পোস্টে বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সে সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন ইতামার বেনগিভর, যিনি হামলায় আহত হয়েছেন বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।
তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি সত্যিই স্কট রিটারের কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানের আরেক সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুর কোনো নতুন ভিডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তার ব্যক্তিগত চ্যানেলে সর্বশেষ ভিডিও প্রকাশের পর তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় চার দিন আগে তার শেষ ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর থেকে তার নামে কিছু বিবৃতি এলেও সেগুলো কেবল লিখিত বা টেক্সট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে সাধারণত তার ব্যক্তিগত চ্যানেল থেকে প্রতিদিন অন্তত একটি করে ভিডিও প্রকাশ করা হতো, কখনো কখনো দিনে তিনটি পর্যন্ত ভিডিওও দেওয়া হতো। কিন্তু গত তিন দিনে কোনো ভিডিও প্রকাশ না পাওয়ায় এ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর বাসভবনের নিরাপত্তা অস্বাভাবিকভাবে জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত ইসরায়েল সফর স্থগিত হওয়াও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সরাসরি সংঘাতের মধ্যে এ ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়া মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হতে পারে। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর ফোনালাপের একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হলেও সেখানে কথোপকথনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, যা পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন তিনি ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘দেশ খেয়েছে খাজুরেরা, নাম পড়েছে হুজুরের’—হাজীগঞ্জে চরমোনাই পীর

ইরানি হামলায় নেতানিয়াহু নিহতের দাবি ইরানি গণমাধ্যমে, নিশ্চিত নয় তথ্য

আপডেট : ০৬:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেনগিভর আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা একটি পোস্টের উল্লেখ করা হয়। দাবি করা হয়েছে, পোস্টটি মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে। ওই পোস্টে বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সে সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন ইতামার বেনগিভর, যিনি হামলায় আহত হয়েছেন বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।
তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি সত্যিই স্কট রিটারের কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানের আরেক সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুর কোনো নতুন ভিডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তার ব্যক্তিগত চ্যানেলে সর্বশেষ ভিডিও প্রকাশের পর তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় চার দিন আগে তার শেষ ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর থেকে তার নামে কিছু বিবৃতি এলেও সেগুলো কেবল লিখিত বা টেক্সট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে সাধারণত তার ব্যক্তিগত চ্যানেল থেকে প্রতিদিন অন্তত একটি করে ভিডিও প্রকাশ করা হতো, কখনো কখনো দিনে তিনটি পর্যন্ত ভিডিওও দেওয়া হতো। কিন্তু গত তিন দিনে কোনো ভিডিও প্রকাশ না পাওয়ায় এ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর বাসভবনের নিরাপত্তা অস্বাভাবিকভাবে জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত ইসরায়েল সফর স্থগিত হওয়াও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সরাসরি সংঘাতের মধ্যে এ ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়া মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হতে পারে। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর ফোনালাপের একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হলেও সেখানে কথোপকথনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, যা পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন তিনি ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন।