শাখাওয়াত হোসেন শামীম:
মাত্র ১৭ দিন আগে হাজীগঞ্জ উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবু তাহের প্রধানিয়া। এখনো নেননি শপথ।
এরইমধ্যে ওই ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহের এর নামে জেলা পরিষদের ২০২২-২৩ অর্থবছরের বরাদ্দেকৃত ঘাটলা নিজের বাড়ির পুকুর পাড়ে স্থাপন করেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু তাহের প্রধানিয়া!
বর্তমানে তার বাড়িতে একপুকুরেই দুটি ঘাটলা। নতুন তৈরি হওয়া ঘটলার নামফলক লাগানোর পর থেকে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয় এলাকা জুড়ে। কারন ঘটলায় লাগানো নতুন নামফলকে লেখা, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহের এর বাড়ির সামনে গণঘাটলা নির্মাণ’।
এতেই এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু তাহের প্রধানিয়া কোন মুক্তিযোদ্ধা নয়, বরং একই গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের হলেন বীর মুক্তিযুদ্ধা। ফলে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় এই ঘটনাটি চেয়ারম্যানের বাড়ির জন্য বরাদ্দকৃত নয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুললেন, চেয়ারম্যান কি তাহলে শপথ গ্রহণের আগেই অনিয়ম শুরু করে দিয়েছেন?
জানা যায় , দুই আবু তাহেরই ইছাপুরা গ্রামের বাসিন্দা। একজন নতুন চেয়ারম্যান আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। চেয়ারম্যান বাড়ির ঘাটলায় নেমপ্লেটে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দেখে তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন। চেয়ারম্যানের বাবা নুরুল ইসলাম প্রধানীয়া বলেন, ‘ঠিকাদার এসে আবু তাহের প্রধানীয়ার বাড়ি কোনটা জানতে চায়। তখন জায়গা দেখিয়ে দিই। সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিল। নেমপ্লেট বসানোর পর সেখানে লেখা বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমার ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা না।’
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহের বিষয়টি জেলা পরিষদে জানিয়েছেন বলে। তিনি জানান, ’গত বছর ২ এপ্রিল জেলা পরিষদে তিনি একটি পাকা ঘাটলার আবেদন করেন। কয়েকদিন আগে জানতে পারেন নতুন চেয়ারম্যানের বাড়িতে একটি পাকা ঘাটলা নির্মাণ হয়েছে।’
তিনি আরো জানা, ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের কাছে এটি মৌখিক অভিযোগ করেছেন এবং কার কারসাজিতে এ ঘাটলা ওই বাড়িতে গিয়েছে এ বিষয়ে তিনি সুস্থ একটা তদন্ত চান।
নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু তাহের প্রধানীয়া এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানান, ‘ঘাটলাটি নির্মাণের সময় আমার জানা ছিল না। আমি বাড়িতে থাকি না। মা-বাবা ও ভাইয়েরা থাকেন।’ ঘাটলাটি কার ইশারায় সঠিক স্থানের বদলে এখানে নির্মাণ হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
জেলা পরিষদের প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলছেন, ‘এটি একটি মিসটেক হয়েছে। আমরা পদক্ষেপ নেব। ঠিকাদারের এখানে দোষ নেই। দোষ হলো যারা তথ্য দিয়েছে। মূলত অপরাধটা করেছেন চেয়ারম্যানের বাবা। তিনি ঠিকাদারকে ভুল তথ্য দিয়েছেন।’
চাঁদপুর জেলা পরিষদের ২০২২-২৩ অর্থবছরের বরাদ্দে গণঘাটলাটি নির্মাণ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ’এখন এই ঘাটলাটি তো আর ভাঙা যাবে না।’ তাই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে একটি নতুন ঘাটলা বরাদ্দ দেবেন বলে তিনি জানান।
|
ReplyForward
|




















