ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে অবৈধ ভ্যাকুর তাণ্ডব: নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমি, প্রশাসনের নিরবতা প্রশ্নবিদ্ধ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১০:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 31

হাজীগঞ্জ উপজেলার ফসলি জমিগুলোতে চলছে অবৈধ ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার তাণ্ডব। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে শত শত একর কৃষি জমি স্থায়ীভাবে নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষকদের পাশাপাশি পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ৯ ও ১০ নং গন্ধর্ব্যপুর এবং ৬ ও ৭ নং বড়কূল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে ধান, পাট ও সবজির জমি চিরতরে আবাদ অক্ষম হয়ে পড়ছে।

বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, প্রশাসনকে বারবার জানালেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের নিরবতাকে কাজে লাগিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষের জমি এখন ধ্বংসের পথে। নিজেরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও হুমকির কারণে আমরা কিছু করতে পারি না।”

মাটি কাটার কারণে শুধু কৃষি জমি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশও। জলাধারগুলো ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকায় ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা বর্ষাকালে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিসার দিলরুবা খানম বলেন, “টপ সয়েল কাটার ফলে ফসলি জমি সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যায়। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। গতকালও একটি ইউনিয়নে অভিযানে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস শীল জানান, “আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তবে প্রশাসনের একাংশের অনীহা এবং প্রভাবশালী মহলের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হাজীগঞ্জের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এক ভুক্তভোগী বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে হাজীগঞ্জের কৃষি জমি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। এখনই যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”

স্থানীয় জনগণ এবং কৃষকদের দাবি, এই অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ অটো চালকের বিরুদ্ধে

হাজীগঞ্জে অবৈধ ভ্যাকুর তাণ্ডব: নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমি, প্রশাসনের নিরবতা প্রশ্নবিদ্ধ

আপডেট : ১০:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪

হাজীগঞ্জ উপজেলার ফসলি জমিগুলোতে চলছে অবৈধ ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার তাণ্ডব। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে শত শত একর কৃষি জমি স্থায়ীভাবে নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষকদের পাশাপাশি পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ৯ ও ১০ নং গন্ধর্ব্যপুর এবং ৬ ও ৭ নং বড়কূল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে ধান, পাট ও সবজির জমি চিরতরে আবাদ অক্ষম হয়ে পড়ছে।

বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, প্রশাসনকে বারবার জানালেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের নিরবতাকে কাজে লাগিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষের জমি এখন ধ্বংসের পথে। নিজেরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও হুমকির কারণে আমরা কিছু করতে পারি না।”

মাটি কাটার কারণে শুধু কৃষি জমি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশও। জলাধারগুলো ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকায় ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা বর্ষাকালে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিসার দিলরুবা খানম বলেন, “টপ সয়েল কাটার ফলে ফসলি জমি সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যায়। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। গতকালও একটি ইউনিয়নে অভিযানে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস শীল জানান, “আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তবে প্রশাসনের একাংশের অনীহা এবং প্রভাবশালী মহলের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হাজীগঞ্জের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এক ভুক্তভোগী বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে হাজীগঞ্জের কৃষি জমি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। এখনই যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”

স্থানীয় জনগণ এবং কৃষকদের দাবি, এই অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।