ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরিষার তেল ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে? গবেষকদের সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রান্নায় সরিষার তেলের ব্যবহার বহু পুরোনো। ভর্তা, ভাজি ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারে এই তেলের জনপ্রিয়তা এখনও ব্যাপক। অনেকেই এটিকে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর মনে করলেও সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দীর্ঘদিন ও অতিরিক্ত ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরিষার তেলে থাকা ‘এরুসিক অ্যাসিড’ দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত এরুসিক অ্যাসিড হৃদপেশিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে হৃদরোগ ও হার্ট ফেইলিউরের কারণ হতে পারে।
এছাড়া উচ্চ তাপে সরিষার তেল বারবার ব্যবহার করলে ট্রান্স-ফ্যাট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ক্ষতিকর চর্বি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে এই তেল। অন্যদিকে বয়স্কদের ডায়াবেটিস ও কিডনি সমস্যাও বাড়াতে পারে।
কিছু গবেষণায় দীর্ঘদিন সরিষার তেল ব্যবহারের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে কম ক্ষতিকর তেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন, সূর্যমুখী, ক্যানোলা কিংবা অলিভ অয়েল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র তেল নয়—অতিরিক্ত লবণ, ফাস্টফুড, ট্রান্সফ্যাট, চিনিযুক্ত পানীয় ও তামাকজাত দ্রব্যও অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির বড় কারণ। তাই সুস্থ থাকতে সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি।

অধ্যাপক ডা. শেখ দাউদ আদনান
সাবেক পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরপুরচন্ডীর তিন ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আলোচনায় সাথী খন্দকার

সরিষার তেল ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে? গবেষকদের সতর্কবার্তা

আপডেট : ১১:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রান্নায় সরিষার তেলের ব্যবহার বহু পুরোনো। ভর্তা, ভাজি ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারে এই তেলের জনপ্রিয়তা এখনও ব্যাপক। অনেকেই এটিকে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর মনে করলেও সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দীর্ঘদিন ও অতিরিক্ত ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরিষার তেলে থাকা ‘এরুসিক অ্যাসিড’ দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত এরুসিক অ্যাসিড হৃদপেশিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে হৃদরোগ ও হার্ট ফেইলিউরের কারণ হতে পারে।
এছাড়া উচ্চ তাপে সরিষার তেল বারবার ব্যবহার করলে ট্রান্স-ফ্যাট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ক্ষতিকর চর্বি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে এই তেল। অন্যদিকে বয়স্কদের ডায়াবেটিস ও কিডনি সমস্যাও বাড়াতে পারে।
কিছু গবেষণায় দীর্ঘদিন সরিষার তেল ব্যবহারের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে কম ক্ষতিকর তেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন, সূর্যমুখী, ক্যানোলা কিংবা অলিভ অয়েল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র তেল নয়—অতিরিক্ত লবণ, ফাস্টফুড, ট্রান্সফ্যাট, চিনিযুক্ত পানীয় ও তামাকজাত দ্রব্যও অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির বড় কারণ। তাই সুস্থ থাকতে সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি।

অধ্যাপক ডা. শেখ দাউদ আদনান
সাবেক পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর