ঢাকা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে মব সন্ত্রাসের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে আদালত, হামলাকারীদের শনাক্তে নির্দেশ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে অপরাধী আটকের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে মারধর, হেনস্তা ও কথিত মাদক প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস মুজাহিদুর রহমান।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বলাখাল বাজারে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে ইয়াবা কারবারি আখ্যা দিয়ে মারধরের একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে ঘটনাটিকে গুরুতর আইন লঙ্ঘনের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, একটি নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, বলাখাল বাজারের একটি মুদিদোকানে থাকা এক প্রবীণ ব্যক্তিকে কয়েকজন তরুণ ইয়াবা কারবারের অভিযোগে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করছেন। ভিডিওতে এক তরুণের হাতে ইয়াবাসদৃশ বস্তু দেখা যায়। ওই বস্তু প্রদর্শন করে মোবাইল ফোনে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর দৃশ্যও রয়েছে।

ভিডিওতে থাকা কথোপকথনের ভিত্তিতে ওই প্রবীণ ব্যক্তি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর বলাখাল ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিজাম কাজী বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়। তবে ভিডিও ধারণের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার উপস্থিতি ছিল না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি কিংবা আটক করার ক্ষমতা ব্যক্তিগত নাগরিকের নেই। ভিডিও পর্যালোচনায় কয়েকজন তরুণ ওই প্রবীণ ব্যক্তির দোকানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছে বলেও প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে।

জাস্টিস অব দ্য পিসের আদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে অপরাধের সন্দেহে বেআইনি জনতা কর্তৃক আটক করে মারধর করা মব কালচারের গুরুতর উদাহরণ। এ ধরনের ঘটনায় নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ও সামনে আসে।

আদেশে আরও বলা হয়, উচ্ছৃঙ্খল তরুণ ও কিশোরগ্যাংয়ের বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন প্রয়োগ জরুরি। আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মব কালচার ও কিশোরগ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় অনুপ্রবেশকারী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হাজীগঞ্জ সার্কেল, চাঁদপুরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সময়সীমার মধ্যে ওই ঘটনায় কিশোরগ্যাংয়ের হাতে আটক প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথিত মাদক উদ্ধারের অভিযোগে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা আদালতকে অবহিত করতে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশের পর এখন হামলাকারীদের শনাক্তকরণ ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে মব সন্ত্রাসের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে আদালত, হামলাকারীদের শনাক্তে নির্দেশ

আপডেট : ০৭:৪৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে অপরাধী আটকের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে মারধর, হেনস্তা ও কথিত মাদক প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস মুজাহিদুর রহমান।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বলাখাল বাজারে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে ইয়াবা কারবারি আখ্যা দিয়ে মারধরের একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে ঘটনাটিকে গুরুতর আইন লঙ্ঘনের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, একটি নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, বলাখাল বাজারের একটি মুদিদোকানে থাকা এক প্রবীণ ব্যক্তিকে কয়েকজন তরুণ ইয়াবা কারবারের অভিযোগে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করছেন। ভিডিওতে এক তরুণের হাতে ইয়াবাসদৃশ বস্তু দেখা যায়। ওই বস্তু প্রদর্শন করে মোবাইল ফোনে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর দৃশ্যও রয়েছে।

ভিডিওতে থাকা কথোপকথনের ভিত্তিতে ওই প্রবীণ ব্যক্তি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর বলাখাল ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিজাম কাজী বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়। তবে ভিডিও ধারণের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার উপস্থিতি ছিল না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি কিংবা আটক করার ক্ষমতা ব্যক্তিগত নাগরিকের নেই। ভিডিও পর্যালোচনায় কয়েকজন তরুণ ওই প্রবীণ ব্যক্তির দোকানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছে বলেও প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে।

জাস্টিস অব দ্য পিসের আদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে অপরাধের সন্দেহে বেআইনি জনতা কর্তৃক আটক করে মারধর করা মব কালচারের গুরুতর উদাহরণ। এ ধরনের ঘটনায় নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ও সামনে আসে।

আদেশে আরও বলা হয়, উচ্ছৃঙ্খল তরুণ ও কিশোরগ্যাংয়ের বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন প্রয়োগ জরুরি। আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মব কালচার ও কিশোরগ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় অনুপ্রবেশকারী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হাজীগঞ্জ সার্কেল, চাঁদপুরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সময়সীমার মধ্যে ওই ঘটনায় কিশোরগ্যাংয়ের হাতে আটক প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথিত মাদক উদ্ধারের অভিযোগে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা আদালতকে অবহিত করতে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশের পর এখন হামলাকারীদের শনাক্তকরণ ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।