ঢাকা ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ নবজাতকের মৃ’ত্যু: আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, লাইসেন্স বাতিলের সতর্কতা

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • 68

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তদন্ত প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়ম ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য আগামী রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের প্রধান ফটকেও নোটিশটি টানিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তে উঠে এসেছে, হাসপাতালটির অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই ৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যেসব তথ্য
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—
হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ভবনটি উপযুক্ত নয়।
সংকীর্ণ কক্ষে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।
নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ভবিষ্যতে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স দেওয়ার আগে ভবনের উপযুক্ততা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিভাবকদের অভিযোগ সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সদের যথাযথ সহযোগিতা না করার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত্যুর পেছনে যেসব কারণ চিহ্নিত
তদন্ত প্রতিবেদনে এসি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা, অক্সিজেনের স্বল্পতা, ছোট কক্ষে অতিরিক্ত রোগী রাখা, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, নার্সদের অসহযোগিতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে নবজাতকদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
ঘটনা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় কক্ষে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে নবজাতকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
তিনি বলেন, পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে অতিরিক্ত লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলা এই মৃত্যুর ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরদিন এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হার্টের ব্যথায় হাসপাতালে হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান

৬ নবজাতকের মৃ’ত্যু: আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, লাইসেন্স বাতিলের সতর্কতা

আপডেট : ০৮:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তদন্ত প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়ম ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য আগামী রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের প্রধান ফটকেও নোটিশটি টানিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তে উঠে এসেছে, হাসপাতালটির অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই ৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যেসব তথ্য
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—
হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ভবনটি উপযুক্ত নয়।
সংকীর্ণ কক্ষে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।
নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ভবিষ্যতে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স দেওয়ার আগে ভবনের উপযুক্ততা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিভাবকদের অভিযোগ সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সদের যথাযথ সহযোগিতা না করার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত্যুর পেছনে যেসব কারণ চিহ্নিত
তদন্ত প্রতিবেদনে এসি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা, অক্সিজেনের স্বল্পতা, ছোট কক্ষে অতিরিক্ত রোগী রাখা, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, নার্সদের অসহযোগিতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে নবজাতকদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
ঘটনা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় কক্ষে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে নবজাতকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
তিনি বলেন, পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে অতিরিক্ত লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলা এই মৃত্যুর ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরদিন এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।