চাঁদপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ দাসাদী গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে সিলেটে কর্মরত জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জিটিডিএসএল) চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জাকির হোসেনের সম্পদের উৎস নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমিত বেতনের চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের বাবুরহাট এলাকার অভয়বাবুর দিঘির পশ্চিম পাড়ে প্রায় ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে একটি আধুনিক পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভবন ও জমির মালিকানা কাগজপত্রে তাঁর স্ত্রীর নামে থাকলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ও অর্থায়নের সঙ্গে জাকির হোসেনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ভবন ছাড়াও তাঁর মালিকানায় একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব যানবাহন থেকে নিয়মিত আয় হচ্ছে এবং সেগুলোর তদারকি করেন তাঁর শ্যালক।
এছাড়া ওয়ারলেস বাজার এলাকায় শ্যালকের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে আসছেন। তবে এসব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অর্থের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একজন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বেতন ও বৈধ আয়ের সঙ্গে এই বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য কতটুকু? তাঁদের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, “জায়গা কিনে ভবন নির্মাণ করেছি।” তবে সম্পদের উৎস, বিনিয়োগের পরিমাণ, বেতনের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য এবং শ্যালকের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চাকরির আয়ের বাইরে বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পদের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বপক্ষে সরকারি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীর আয় ও সম্পদের মধ্যে অসংগতি দেখা দিলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “কোনো ব্যক্তি তার বৈধ আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হলে সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং সম্পদ অর্জনের সময়কাল যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জাকির হোসেনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত তথ্য, কর রিটার্ন, ব্যাংক লেনদেন এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে জনমনে সৃষ্টি হওয়া নানা প্রশ্নের অবসান ঘটবে।




















