চাঁদপুরে মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ নির্মাণের লক্ষ্যে ৩০ দশমিক ১২ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রস্তাব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিগ্রহণ-২ শাখা থেকে প্রস্তুত করা এক সারসংক্ষেপে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতাধীন “চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন” প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চাঁদপুর সদর উপজেলার মহাদেব গাছতলা ও চরমেয়াশা মৌজায় এ ভূমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদনের পর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর জেলা প্রশাসক, চাঁদপুরের কাছে ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠায়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন সরেজমিনে সম্ভাব্যতা যাচাই করে অধিগ্রহণে কোনো প্রতিবন্ধকতা খুঁজে পায়নি।
প্রস্তাবিত জমিতে কোনো মসজিদ, মন্দির, গির্জা, কবরস্থান, শ্মশানঘাট বা অন্য কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জমিতে বিদ্যমান কোনো স্থাপনা থাকলে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রত্যয়ন করেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার প্রতিবেদনে জমিগুলো এক ফসলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় ৩০.১২ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ০১/২০২৪-২৫ নম্বর ভূমি অধিগ্রহণ মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী নোটিশ জারি করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তি পাওয়া যায়নি।
অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত ৩০.১২ একর জমির মধ্যে ২৭.৫৪ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং ২.৫৮ একর খাস খতিয়ানভুক্ত ভূমি রয়েছে। জেলা প্রশাসক চাঁদপুর এসব জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তরের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠান।
উল্লেখ্য, “চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন” প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে এবং ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানও রাখা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী ১৬.৫০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার প্রধানের অনুমোদন প্রয়োজন। সেই বিধান অনুসারে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত ৩০.১২ একর ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
সারসংক্ষেপে সুপারিশ করা হয়েছে যে, স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ২৭.৫৪ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ এবং ২.৫৮ একর খাস জমি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অনুকূলে হস্তান্তর করা যেতে পারে।
এ অনুমোদন পাওয়া গেলে চাঁদপুরে বহুল প্রত্যাশিত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ নির্মাণের পথ আরও সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ নির্মাণে ৩০.১২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে
-
ডেস্ক নিউজ - আপডেট : ০৭:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- 78
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ




















