ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তারের পরই অসুস্থ, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃ*ত্যু

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৭:২০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • 95

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার আসামি মিজানুর রহমান (৫৫) গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মিজানুর রহমান উপজেলার কৈড়াতলী গ্রামের বাবু বাড়ির বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে উপজেলার কৈড়াতলী এলাকায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় নেওয়ার পথে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত তাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, মৃতদেহে প্রাথমিকভাবে কোনো ধরনের আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার ধারণা, হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। নিহতের স্বজন মামুন পাটোয়ারী দাবি করেন, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি মিথ্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরে একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন এবং তাদের প্রভাবেই পুলিশ যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করে। মানসিক চাপ ও অপবাদ সহ্য করতে না পেরেই তার মৃত্যু হয়েছে বলেও পরিবারের দাবি। তারা আরও জানান, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে নিজ বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থানায় আনার সময় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময় 

গ্রেপ্তারের পরই অসুস্থ, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃ*ত্যু

আপডেট : ০৭:২০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার আসামি মিজানুর রহমান (৫৫) গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মিজানুর রহমান উপজেলার কৈড়াতলী গ্রামের বাবু বাড়ির বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে উপজেলার কৈড়াতলী এলাকায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় নেওয়ার পথে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত তাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, মৃতদেহে প্রাথমিকভাবে কোনো ধরনের আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার ধারণা, হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। নিহতের স্বজন মামুন পাটোয়ারী দাবি করেন, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি মিথ্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরে একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন এবং তাদের প্রভাবেই পুলিশ যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করে। মানসিক চাপ ও অপবাদ সহ্য করতে না পেরেই তার মৃত্যু হয়েছে বলেও পরিবারের দাবি। তারা আরও জানান, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে নিজ বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থানায় আনার সময় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।