জানা গেছে, ২৯ সেপ্টেম্বর আরিফ চাঁদপুর শহরের হাজী মহসিন রোডে অবস্থিত ঢাকা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে (KUB) করান। সেখানকার এক্স-রে রিপোর্টে ‘Right Renal Calculus’ অর্থাৎ ডান কিডনিতে পাথর রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। রিপোর্টটি প্রস্তুত করেন ডা. মো. মোশাররফ হোসাইন খান।
একই প্রতিষ্ঠানে করা USG Whole Abdomen রিপোর্টে ‘Bilateral mild hydronephrosis’ অর্থাৎ দুই কিডনিতে মৃদু হাইড্রোনেফ্রোসিসের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই রিপোর্টটি প্রস্তুত করেন ডা. শারমিন সুলতানা।
দুটি রিপোর্টেই কিডনি-সংক্রান্ত অস্বাভাবিকতার কথা আসায় বিষয়টি নিশ্চিত হতে পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর আরিফ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আজাদ এক্স-রে অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই ধরনের পরীক্ষা করান।
তবে সেখানে করা পরীক্ষার রিপোর্টে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে বলে জানান আরিফ। তার দাবি, দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানে করা আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে—দুই পরীক্ষার রিপোর্টেই কোনো অস্বাভাবিকতার কথা উল্লেখ করা হয়নি। আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টটি প্রস্তুত করেন ডা. আশরাফ আহমেদ চৌধুরী।
ফলে মাত্র একদিনের ব্যবধানে একই রোগীর একই ধরনের পরীক্ষায় এক প্রতিষ্ঠানে কিডনিতে পাথর ও দুই কিডনিতে মৃদু হাইড্রোনেফ্রোসিসের কথা উল্লেখ করা হলেও অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে তা না আসায় পরীক্ষার ফলাফলের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী আরিফ বলেন, “আমি আসলেই এখন বিপাকে পড়েছি, দুশ্চিন্তায় আছি। কোন রিপোর্টটি সঠিক, আমি বুঝতে পারছি না। আমি যে বেতনে চাকরি করি, সেখানে এভাবে বারবার পরীক্ষার পেছনে টাকা খরচ করা আমার জন্য কষ্টকর। দুই জায়গায় পরীক্ষা করাতে গিয়ে দুই দিন সময় নষ্ট হয়েছে, টাকাও খরচ হয়েছে। এখন আবার নতুন করে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে হবে আসলে আমার কী হয়েছে।”
এ বিষয়ে ঢাকা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকপক্ষের পরিচয়দানকারী মহসিন বলেন, “আমাদের রিপোর্ট ঠিক আছে, আমরা বিশ্বাসী। তবে আপনারা আমাদের ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেন।”
এরপর রিপোর্ট প্রস্তুতকারী ডা. শারমিন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অপেক্ষা করতে বলেন। প্রতিবেদকরা প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তার সঙ্গে আর কথা বলা সম্ভব হয়নি এবং তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে আসেন না। ফলে রিপোর্টের পার্থক্যের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আজাদ এক্স-রে অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষও তাদের করা পরীক্ষার রিপোর্ট সঠিক বলে দাবি করেছে।
একই রোগীর কাছাকাছি সময়ে করা একই ধরনের পরীক্ষায় ভিন্ন ফলাফল আসায় বিষয়টির যথাযথ ব্যাখ্যা চান রোগী ও তার স্বজনরা। পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান, রিপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া এবং দুই প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের পার্থক্যের কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।









