দীর্ঘ ১২ বছর চাঁদপুর জেলা পরিষদে কর্মরত থাকার পর অবশেষে বদলি হয়ে কর্মস্থল ছেড়েছেন সার্ভেয়ার মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এরই মধ্যে তার বদলির আদেশ কার্যকর করা নিয়ে তৈরি হয় নানা টানাপোড়েন। শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুর জেলা পরিষদে তার শেষ কর্মদিবস ছিল। শনিবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়। রোববার নতুন কর্মস্থল নোয়াখালী জেলা পরিষদে যোগ দেন তিনি।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের এক অফিস আদেশে চাঁদপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে নোয়াখালী জেলা পরিষদে বদলি করা হয়। একই আদেশে দিনাজপুর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ এমরান হোসেনকে চাঁদপুর জেলা পরিষদে পদায়ন করা হয়।
তবে বদলির আদেশ জারির পরদিনই নাছির উদ্দিনকে চাঁদপুরে বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দিয়ে নাছির উদ্দিনের বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে চাঁদপুরে বহাল রাখার অনুরোধ জানান। এ ঘটনায় বদলির আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে চাঁদপুর ছাড়তে হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা পরিষদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে নাছির উদ্দিনের সম্পদ অর্জন, আয়-সম্পদের সামঞ্জস্য এবং উন্নয়নকাজের বরাদ্দ ও বাস্তবায়নে তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক অসংগতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
দীর্ঘ ১২ বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পর তার বদলি এবং আদেশ জারির পরদিনই তাকে চাঁদপুরে বহাল রাখার উদ্যোগ—দুটি বিষয়ই জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
অবশেষে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদ ছেড়ে নোয়াখালীতে যোগ দিয়েছেন নাছির উদ্দিন। তবে তার এই বদলি কত দিন কার্যকর থাকে, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কৌতূহল রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তিনি আবারও চাঁদপুর জেলা পরিষদে ফিরে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।



















