চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নন্দলালপুর ছামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গত ১৭ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী ও দাতাদের অভিযোগ, এ সময়ে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাবে ৩ কোটি টাকার বেশি গড়মিল রয়েছে। গত দুই মাস ধরে প্রধান শিক্ষকের কাছে হিসাব চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে প্রধান শিক্ষক কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নন্দলালপুর, সাতবাড়িয়া ও আশপাশের এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখতে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে হিসাব উপস্থাপন করা থেকে বিরত রয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রধান শিক্ষক মো. সারোয়ার হোসেন ২০০৯ সালে বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিয়ে অসংগতি দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে বিদ্যালয়ের আয় তিন কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা থাকলেও ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে মাত্র ১৪ লাখ টাকা। এ সময়ে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে উল্লেখযোগ্য দৃশ্যমান উন্নয়নকাজও হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
সম্পদের উৎস নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক সারোয়ার হোসেন ঢাকার মিরপুরে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। এ ছাড়া দাউদকান্দি উপজেলা সদরে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং তাঁর মেয়েকে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাঠাতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তাঁদের প্রশ্ন, একজন শিক্ষকের এসব সম্পদের উৎস কী এবং বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। তবে এসব সম্পদের মূল্য, অর্থের উৎস কিংবা বিদ্যালয়ের অর্থের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তাঁরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হিসাব নিরূপণ করে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অর্থের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে তা উদ্ধার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে।
প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, “আমার মাধ্যমে কোনো দুর্নীতি হয়নি। সব হিসাব ঠিক আছে।”
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে হিসাব চাওয়া হবে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব, আয়-ব্যয়ের নথি, অডিট প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক দলিলপত্র যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নন্দলালপুর ছামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭ বছরে ৩ কোটি টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
-
ডেস্ক নিউজ - আপডেট : ০৬:৩০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- 52
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















