ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুর প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে বিনামূল্যের ভ্যাকসিন ২৫০ টাকায়!

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১২:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • 32

সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। তবে ২৫০ টাকা দিলেই মিলছে কুকুর-বিড়ালের ভ্যাকসিন! চাঁদপুর সরকারি প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে এমন অভিযোগ উঠেছে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম তালুকদারের বিরুদ্ধে। সরকারি সরবরাহ নেই বলে সেবাগ্রহীতাদের জানিয়ে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে তা প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সরকারি হাসপাতালের চেম্বারে বসে এভাবে ভ্যাকসিন বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে একাধিক সেবাগ্রহীতার বক্তব্য পাওয়া যায়। শহরের বাসিন্দা দেলোয়ার আহমেদ সরকার জানান, পোষা বিড়ালকে ভ্যাকসিন দিতে হাসপাতালে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সরকারি সরবরাহ নেই বলে জানান। পরে ২৫০ টাকা দিলে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা বলেন। টাকা দেওয়ার পর ওই কর্মকর্তা নিজের ড্রয়ার থেকে ভ্যাকসিন বের করে বিড়ালের শরীরে প্রয়োগ করেন।

 

অন্য কয়েকজন কুকুর-বিড়াল পালনকারীরও অভিযোগ, সরকারি ভ্যাকসিন নেই বলে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে টাকা দিতে রাজি হলে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। পোষা প্রাণীর সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

 

অভিযোগের বিষয়ে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম তালুকদার বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে কুকুর-বিড়ালের জলাতঙ্ক ও ফ্লু প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সরকারি সরবরাহ আসছে না। এ কারণে তিনি একটি কোম্পানি থেকে নিজের টাকায় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রাখেন, যাতে সেবা নিতে আসা মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে না হয়।

 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চিকিৎসক জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়মে ও মূল্যে কিংবা বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি হাসপাতালে বসে বাইরের কোম্পানি থেকে ভ্যাকসিন এনে বিক্রি করলে তা বেআইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও কেন সেবাগ্রহীতাদের অর্থের বিনিময়ে তা নিতে হচ্ছে? সরকারি সরবরাহ না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কার? আর সরকারি হাসপাতালের চেম্বারে বসে বাইরের কোম্পানির ভ্যাকসিন অর্থের বিনিময়ে প্রয়োগের অনুমতি রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ভুক্তভোগীরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা

চাঁদপুর প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে বিনামূল্যের ভ্যাকসিন ২৫০ টাকায়!

আপডেট : ১২:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। তবে ২৫০ টাকা দিলেই মিলছে কুকুর-বিড়ালের ভ্যাকসিন! চাঁদপুর সরকারি প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে এমন অভিযোগ উঠেছে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম তালুকদারের বিরুদ্ধে। সরকারি সরবরাহ নেই বলে সেবাগ্রহীতাদের জানিয়ে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে তা প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সরকারি হাসপাতালের চেম্বারে বসে এভাবে ভ্যাকসিন বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে একাধিক সেবাগ্রহীতার বক্তব্য পাওয়া যায়। শহরের বাসিন্দা দেলোয়ার আহমেদ সরকার জানান, পোষা বিড়ালকে ভ্যাকসিন দিতে হাসপাতালে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সরকারি সরবরাহ নেই বলে জানান। পরে ২৫০ টাকা দিলে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা বলেন। টাকা দেওয়ার পর ওই কর্মকর্তা নিজের ড্রয়ার থেকে ভ্যাকসিন বের করে বিড়ালের শরীরে প্রয়োগ করেন।

 

অন্য কয়েকজন কুকুর-বিড়াল পালনকারীরও অভিযোগ, সরকারি ভ্যাকসিন নেই বলে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে টাকা দিতে রাজি হলে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। পোষা প্রাণীর সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

 

অভিযোগের বিষয়ে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম তালুকদার বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে কুকুর-বিড়ালের জলাতঙ্ক ও ফ্লু প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সরকারি সরবরাহ আসছে না। এ কারণে তিনি একটি কোম্পানি থেকে নিজের টাকায় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রাখেন, যাতে সেবা নিতে আসা মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে না হয়।

 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চিকিৎসক জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়মে ও মূল্যে কিংবা বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি হাসপাতালে বসে বাইরের কোম্পানি থেকে ভ্যাকসিন এনে বিক্রি করলে তা বেআইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও কেন সেবাগ্রহীতাদের অর্থের বিনিময়ে তা নিতে হচ্ছে? সরকারি সরবরাহ না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কার? আর সরকারি হাসপাতালের চেম্বারে বসে বাইরের কোম্পানির ভ্যাকসিন অর্থের বিনিময়ে প্রয়োগের অনুমতি রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ভুক্তভোগীরা।