ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জের রাস্তায় হকার বসলেই জব্দ হবে মালামাল, দেওয়া হবে এতিমখানায়: জেলা প্রশাসক মোহসীন উদ্দিন

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৭:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • 55

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনের কঠোর নির্দেশনায় হাজীগঞ্জ বাজারে হকারমুক্ত ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চলছে। উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদারকিতে বাজার এলাকায় এখন শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে।

গত ১ আগস্ট থেকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও বাজারের ফুটপাতে কোনো হকার বসতে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এ কঠোর পদক্ষেপে ফুটপাত উন্মুক্ত হওয়ায় সাধারণ পথচারীরা স্বস্তি ফিরেছে, আর অবৈধ গাড়ি পার্কিংও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে হাজীগঞ্জ বাজার পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন সেনাবাহিনীর কর্নেল মোয়াজ্জেম হোসেন, পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাবেদ হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক বলেন,হাজীগঞ্জ বাজারের ফুটপাত ও সড়কে কোনো ধরনের হকার বসার সুযোগ নেই। কেউ বসলে তাদের ব্যাটারিচালিত রিকশা, দোকানপাট ও পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হবে। উদ্ধারকৃত মালামাল এতিমখানায় হস্তান্তর করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “হকারদের দেড় মাস সময় দিয়েছিলাম উপযুক্ত স্থানে ব্যবসা করার জন্য। হকার পুনর্বাসন কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। অতীতে যাদের পুনর্বাসন করা হয়েছিল, তারা দোকান বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছে, অথচ হকারের সংখ্যা কমেনি।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক সতর্ক করে বলেন,

“হকারমুক্ত বাজারের সুযোগে যদি কেউ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক টিম বাজারে অভিযান চালাবে। অতিরিক্ত দাম নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সিএনজি বা অটোরিকশা চালকরা যদি সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিগগিরই মালিক ও চালকদের নিয়ে বৈঠক করে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।”

পরিদর্শনকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাবেদ হোসেন চৌধুরীর কার্যক্রমের প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, “গতকাল চারজন ব্যবসায়ী আইন অমান্য করেছিল, আপনি তাদের মোটা অংকের জরিমানা করেছেন। এটি ইতিবাচক উদ্যোগ, ভবিষ্যতেও এটি অব্যাহত রাখতে হবে। ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।”

হাজীগঞ্জ বাজারকে যানজট ও হকারমুক্ত করতে সহযোগিতা করায় উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আনসার সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক।

পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ-ফরিদগঞ্জ) সার্কেল মুকুর চাকমা, হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ফারুক, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি হাসান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরিফসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।

প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও ধারাবাহিক অভিযান বাজারের চিত্র পাল্টে দিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে হাজীগঞ্জ বাজার স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে নতুন ইউএনওকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড’-এর সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা

হাজীগঞ্জের রাস্তায় হকার বসলেই জব্দ হবে মালামাল, দেওয়া হবে এতিমখানায়: জেলা প্রশাসক মোহসীন উদ্দিন

আপডেট : ০৭:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনের কঠোর নির্দেশনায় হাজীগঞ্জ বাজারে হকারমুক্ত ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চলছে। উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদারকিতে বাজার এলাকায় এখন শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে।

গত ১ আগস্ট থেকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও বাজারের ফুটপাতে কোনো হকার বসতে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এ কঠোর পদক্ষেপে ফুটপাত উন্মুক্ত হওয়ায় সাধারণ পথচারীরা স্বস্তি ফিরেছে, আর অবৈধ গাড়ি পার্কিংও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে হাজীগঞ্জ বাজার পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন সেনাবাহিনীর কর্নেল মোয়াজ্জেম হোসেন, পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাবেদ হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক বলেন,হাজীগঞ্জ বাজারের ফুটপাত ও সড়কে কোনো ধরনের হকার বসার সুযোগ নেই। কেউ বসলে তাদের ব্যাটারিচালিত রিকশা, দোকানপাট ও পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হবে। উদ্ধারকৃত মালামাল এতিমখানায় হস্তান্তর করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “হকারদের দেড় মাস সময় দিয়েছিলাম উপযুক্ত স্থানে ব্যবসা করার জন্য। হকার পুনর্বাসন কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। অতীতে যাদের পুনর্বাসন করা হয়েছিল, তারা দোকান বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছে, অথচ হকারের সংখ্যা কমেনি।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক সতর্ক করে বলেন,

“হকারমুক্ত বাজারের সুযোগে যদি কেউ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক টিম বাজারে অভিযান চালাবে। অতিরিক্ত দাম নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সিএনজি বা অটোরিকশা চালকরা যদি সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিগগিরই মালিক ও চালকদের নিয়ে বৈঠক করে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।”

পরিদর্শনকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাবেদ হোসেন চৌধুরীর কার্যক্রমের প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, “গতকাল চারজন ব্যবসায়ী আইন অমান্য করেছিল, আপনি তাদের মোটা অংকের জরিমানা করেছেন। এটি ইতিবাচক উদ্যোগ, ভবিষ্যতেও এটি অব্যাহত রাখতে হবে। ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।”

হাজীগঞ্জ বাজারকে যানজট ও হকারমুক্ত করতে সহযোগিতা করায় উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আনসার সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক।

পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ-ফরিদগঞ্জ) সার্কেল মুকুর চাকমা, হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ফারুক, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি হাসান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরিফসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।

প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও ধারাবাহিক অভিযান বাজারের চিত্র পাল্টে দিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে হাজীগঞ্জ বাজার স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।