ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জ মামলা করে ‘নিরাপত্তাহীনতায়’ বাদী সেলিনা বেগম এর পরিবার

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৬:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • 27
 চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার  ৭ নং পাইকপাড়া উওর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড কামাল পুর গ্রামে সেলিনা বেগম নামে এক নারীর উপর হামলার ঘটনায় চাঁদপুর আমলি আদালতে ৪ জন কে আসামি করে সি আর ৫৪৩/২৫  মামলা করায় আসামিদের বিরুদ্ধে ওই পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত ১৪ জুন সকালে আসামি কামাল হোসেন (৪২ )রিয়াদ হোসেন ( ১৮) রিয়া বেগম( ২২) ও শামসুন্নাহার (৪০) আসামিদের হামলার শিকার হন সেলিনা বেগম।  এসময় হামলাকারীরা সেলিনা বেগমকে তার বসত ঘরের সামনে এসে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি লাথি ও লাঠি ছটা দিয়ে বেদমভাবে পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে ।হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও করেন ভুক্তভোগী। পরে তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চাঁদপুর আমলি আদালতে৪ জন কে আসামি করে সি আর ৫৪৩/২৫ একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী।
বাদী সেলিনা বেগম বলেন, আসামিরা পরস্পর আমার প্রতিবেশী দীর্ঘদিন তাদের পরিবার আমার ঘরে যাওয়া আসা করত গত ৩০ মে আমি আমার বাপের বাড়ি থেকে আসার পর আমার ব্যবহৃত প্রায় দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের হার একজোড়া কানের দুল ও একটি আংটি ঘরের আলমারিতে রাখি ওই সময় রিয়া ও তার মা শামসুন্নাহার আমার ঘরে ছিল। আমি পুকুরে গোসল করতে গেলে এই সুযোগে তারা আমার স্বর্ণ গুলো ছুরি করে নিয়ে যায়। এই নিয়ে বাঘ বিতর্কে এক পর্যায়ে আসামিদের যোগ সাজোসে আমাকে হত্যা করার জন্য মধ্যযুগীয় কায়দায় আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে।  তারা আমার সারা শরীরে আঘাত করেছে।’ হামলাকারীরা এ সময় তাকে শারীরিকভাবেও নির্যাতন করেন বলে দাবি অভিযোগকারীর।
তিনি আরও বলেন, আসামি রিয়া ও তার বাবা কামাল হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমার পিতা আবুল বাশার মিজি ও আমার নামে আজেবাজে পোস্ট করে এই নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও গত ৩ আগস্ট বিকেলে শামসুন্নাহার আমাকে গালমন্দ করে এবং প্রাণ নাসের হুমকি দেয়। বর্তমানে আমার দেওয়া মামলাটি ডিবি তদন্তে থাকার পরও আমার উপর এমন মানসিক অত্যাচার ও নির্যাতন চালাচ্ছে আসামিরা। অথচ মামলার পরও আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে আমার গোটা পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।’
এ বিষয়ে বাদী সেলিনা বেগম এর শশুর আবুল বাশার (৭০) জানান ঘটনার দিন আমি বাড়ির পাশের বাগানে ছিলাম আমার পুত্রবধূ সেলিনা বেগমের ডাকচিৎকার শুনে এসে দেখি কামাল হোসেন গং রা সেলিনার উপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে এবং আমার নাতির সাইকেল নিয়ে যাচ্ছে। আমি তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাই। আমরা একলা বাড়িতে থাকি এজন্য আসামিরা সকল সময়ে আমাদের পরিবারের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে।
সেলিনা বেগমের পিতা আবুল বাশার মিজি (৬৫)বলেন, ঘটনার দিন আমাদের কাছে ফোন আসছে যে আমার মেয়েকে কামাল হোসেন গং রা বেদম ভাবে রক্তাক্ত জখম করে চলে গেছে।আমি  ওই বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং তাকে সেখানে চিকিৎসা করাই। এরপর থেকে আসামি কামাল হোসেন তার ফেসবুক আইডি থেকে আমার ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে আমি রাষ্ট্রীয় আইনে আসামিদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি। আমরা এই ঘটনাগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম ও এলাকার গণ্যমান্যদের জানিয়ে রাখছি তারা আমাদেরকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগকারীদের কাউকে টেলিফোনে বা বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় অনন্য হাজীগঞ্জের কলামিস্ট কাজী মোরশেদ আলম

ফরিদগঞ্জ মামলা করে ‘নিরাপত্তাহীনতায়’ বাদী সেলিনা বেগম এর পরিবার

আপডেট : ০৬:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
 চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার  ৭ নং পাইকপাড়া উওর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড কামাল পুর গ্রামে সেলিনা বেগম নামে এক নারীর উপর হামলার ঘটনায় চাঁদপুর আমলি আদালতে ৪ জন কে আসামি করে সি আর ৫৪৩/২৫  মামলা করায় আসামিদের বিরুদ্ধে ওই পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত ১৪ জুন সকালে আসামি কামাল হোসেন (৪২ )রিয়াদ হোসেন ( ১৮) রিয়া বেগম( ২২) ও শামসুন্নাহার (৪০) আসামিদের হামলার শিকার হন সেলিনা বেগম।  এসময় হামলাকারীরা সেলিনা বেগমকে তার বসত ঘরের সামনে এসে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি লাথি ও লাঠি ছটা দিয়ে বেদমভাবে পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে ।হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও করেন ভুক্তভোগী। পরে তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চাঁদপুর আমলি আদালতে৪ জন কে আসামি করে সি আর ৫৪৩/২৫ একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী।
বাদী সেলিনা বেগম বলেন, আসামিরা পরস্পর আমার প্রতিবেশী দীর্ঘদিন তাদের পরিবার আমার ঘরে যাওয়া আসা করত গত ৩০ মে আমি আমার বাপের বাড়ি থেকে আসার পর আমার ব্যবহৃত প্রায় দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের হার একজোড়া কানের দুল ও একটি আংটি ঘরের আলমারিতে রাখি ওই সময় রিয়া ও তার মা শামসুন্নাহার আমার ঘরে ছিল। আমি পুকুরে গোসল করতে গেলে এই সুযোগে তারা আমার স্বর্ণ গুলো ছুরি করে নিয়ে যায়। এই নিয়ে বাঘ বিতর্কে এক পর্যায়ে আসামিদের যোগ সাজোসে আমাকে হত্যা করার জন্য মধ্যযুগীয় কায়দায় আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে।  তারা আমার সারা শরীরে আঘাত করেছে।’ হামলাকারীরা এ সময় তাকে শারীরিকভাবেও নির্যাতন করেন বলে দাবি অভিযোগকারীর।
তিনি আরও বলেন, আসামি রিয়া ও তার বাবা কামাল হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমার পিতা আবুল বাশার মিজি ও আমার নামে আজেবাজে পোস্ট করে এই নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও গত ৩ আগস্ট বিকেলে শামসুন্নাহার আমাকে গালমন্দ করে এবং প্রাণ নাসের হুমকি দেয়। বর্তমানে আমার দেওয়া মামলাটি ডিবি তদন্তে থাকার পরও আমার উপর এমন মানসিক অত্যাচার ও নির্যাতন চালাচ্ছে আসামিরা। অথচ মামলার পরও আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে আমার গোটা পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।’
এ বিষয়ে বাদী সেলিনা বেগম এর শশুর আবুল বাশার (৭০) জানান ঘটনার দিন আমি বাড়ির পাশের বাগানে ছিলাম আমার পুত্রবধূ সেলিনা বেগমের ডাকচিৎকার শুনে এসে দেখি কামাল হোসেন গং রা সেলিনার উপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে এবং আমার নাতির সাইকেল নিয়ে যাচ্ছে। আমি তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাই। আমরা একলা বাড়িতে থাকি এজন্য আসামিরা সকল সময়ে আমাদের পরিবারের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে।
সেলিনা বেগমের পিতা আবুল বাশার মিজি (৬৫)বলেন, ঘটনার দিন আমাদের কাছে ফোন আসছে যে আমার মেয়েকে কামাল হোসেন গং রা বেদম ভাবে রক্তাক্ত জখম করে চলে গেছে।আমি  ওই বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং তাকে সেখানে চিকিৎসা করাই। এরপর থেকে আসামি কামাল হোসেন তার ফেসবুক আইডি থেকে আমার ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে আমি রাষ্ট্রীয় আইনে আসামিদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি। আমরা এই ঘটনাগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম ও এলাকার গণ্যমান্যদের জানিয়ে রাখছি তারা আমাদেরকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগকারীদের কাউকে টেলিফোনে বা বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি।