‘খাল বাচাঁও, পরিবেশ বাচাঁও, দখলদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ এই প্রতিপাদ্যে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজার ও পৌরসভা এলাকায় দখলকৃত খাল পুনঃরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজীগঞ্জ পৌরবাসীর ব্যানারে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ গাজির খাদা হয়ে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের পেছন হয়ে হাজীগঞ্জ থানার সামনে দিয়ে বোয়ালজুরি খালের সাথে সংযুক্ত এবং গাজির খাদা থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত খাল ছিলো। কিন্তু কালের পরিক্রমায় ভূমি দস্যূরা খালটি দখল করে নেয়।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনস্বার্থে সরকার দখলকৃত খাল পুনঃরুদ্ধার ও পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তাই আমরা চাই, হাজীগঞ্জ বাজার’সহ পৌরসভা এলাকায় দখলকৃত সকল খাল উদ্ধার করতে হবে। এসময় তারা ভূমি দস্যূদের শুভবুদ্ধির উদয়ের আহবান জানান।
বক্তারা অবিলম্বে সরকারি খালগুলো চিহ্নিত করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, খালের জায়গা পুনরুদ্ধার এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত খালগুলো দখলমুক্ত করে পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের প থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
নুরুন্নবী সম্রাটের সভাপতিত্বে ও মারুফ খান রাসেলের উপস্থাপনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, হাজী মিজানুর রহমান, হুমায়ুন কবির সুমন, নাজমুল হাসান রাজন, জহির আহমেদ জহির, সোহেল রানা সোহেল প্রমুখ। এসময় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আহাম্মদ আলী পাটোয়ারী ওয়াকফ এস্টেট ও হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স কর্তৃপরে বিরুদ্ধে মসজিদ এলাকায় রাতের আঁধারে সরকারি খাসভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠে।
বিষয়টি জানতে পেরে গত বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানী আকন। এসময় তিনি ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাৎখনিক স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশনা দেন এবং দখলকৃত ভূমির স্থানে খুঁটিতে লাল কাপড় টানিয়ে দেন।
পরবর্তীতে তিনি লিখিত নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে ব্যাা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই ভূমিতে নির্মাণকাজসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




















