চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চৌরাঙ্গী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের ঘটনায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সরকারি খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ ও ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। ১ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চৌরাঙ্গী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে বিভিন্ন ব্যক্তি দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে গত ৭ জুলাই ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিবিধ মামলা নং-০২/২০২৬ (ফরিদগঞ্জ) গ্রহণ করেন।
এর পরদিন ৮ জুলাই আদালত থেকে নোটিশ জারি করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ২১ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ২৯ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় পরবর্তীতে আদালত ১৮ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুনর্নির্দেশ দেন।
পরে আদালতের পুনর্নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হোসেনের দপ্তর থেকে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয় বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ ও ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। তাদের ১ সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে ১৭ জনের নাম উঠে আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি খালের জায়গা কীভাবে দখল করা হয়েছে, স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন ছিল কি না এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় এখন আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি খাল দখলের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সরকারি খাল দখলের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের পাশাপাশি দখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
১ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্টদের আদালতে হাজিরার পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এবং সরকারি খাল দখলের অভিযোগের বিষয়ে আদালত কী নির্দেশনা দেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




















