ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহাবাজকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ টিনের ঘরে পাঠদান, ঝুঁকিতে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১০নং পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের ৮২নং শাহাবাজ কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একটি জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে টিনের ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিনের ঘরটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ভবনের পিলারগুলো ভেঙে যাওয়ায় কোনো রকমে বাঁশের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঘরটি। টিনে ধরেছে মরিচা, বিভিন্ন স্থানে টিন ক্ষয়ে গেছে। দেওয়ালের বিভিন্ন অংশও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ভেতরে পানি পড়ায় পাঠদানেও তৈরি হয় নানা সমস্যা।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৭ জন শিক্ষক ও প্রায় দুশতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৯৪৩ সালে নির্মিত টিন শেডের সেমি পাকা ভবনে শুরু হয় পাঠ দান। পরে একটি দুই রুম বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। যা শিক্ষার্থীর তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। ফলে জায়গার সংকটে বাধ্য হয়ে জরাজীর্ণ টিনের ঘরেই ক্লাস নিতে হচ্ছে জানান শিক্ষকরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিন ক্লাস করতে এসে তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। যেকোনো সময় ঘরের কোনো অংশ ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ,“ঘরটি অনেক পুরোনো ও নড়বড়ে। ক্লাস করার সময় ভয় লাগে। আমরা একটি নিরাপদ ও ভালো শ্রেণিকক্ষ চাই।”

এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা প্রতিদিন স্কুলে আসে। কিন্তু এই ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে তাদের ক্লাস করতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ অথবা জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কার করা প্রয়োজন।” শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বাড়েনি। এতে একদিকে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি জরাজীর্ণ টিনের ঘরটি অপসারণ বা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও আধুনিক শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করবে।

প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন সরকার বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। টিনের ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
বিদ্যালয়ের এই সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত বিদ্যালয়ের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হোক। এতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে নিয়মিত পাঠগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং শিক্ষার মানও আরও উন্নত হবে।”

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, আমি এ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে।শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে জেলা পুলিশের প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

শাহাবাজকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ টিনের ঘরে পাঠদান, ঝুঁকিতে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী

আপডেট : ০৭:০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১০নং পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের ৮২নং শাহাবাজ কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একটি জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে টিনের ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিনের ঘরটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ভবনের পিলারগুলো ভেঙে যাওয়ায় কোনো রকমে বাঁশের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঘরটি। টিনে ধরেছে মরিচা, বিভিন্ন স্থানে টিন ক্ষয়ে গেছে। দেওয়ালের বিভিন্ন অংশও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ভেতরে পানি পড়ায় পাঠদানেও তৈরি হয় নানা সমস্যা।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৭ জন শিক্ষক ও প্রায় দুশতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৯৪৩ সালে নির্মিত টিন শেডের সেমি পাকা ভবনে শুরু হয় পাঠ দান। পরে একটি দুই রুম বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। যা শিক্ষার্থীর তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। ফলে জায়গার সংকটে বাধ্য হয়ে জরাজীর্ণ টিনের ঘরেই ক্লাস নিতে হচ্ছে জানান শিক্ষকরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিন ক্লাস করতে এসে তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। যেকোনো সময় ঘরের কোনো অংশ ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ,“ঘরটি অনেক পুরোনো ও নড়বড়ে। ক্লাস করার সময় ভয় লাগে। আমরা একটি নিরাপদ ও ভালো শ্রেণিকক্ষ চাই।”

এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা প্রতিদিন স্কুলে আসে। কিন্তু এই ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে তাদের ক্লাস করতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ অথবা জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কার করা প্রয়োজন।” শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বাড়েনি। এতে একদিকে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি জরাজীর্ণ টিনের ঘরটি অপসারণ বা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও আধুনিক শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করবে।

প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন সরকার বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। টিনের ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
বিদ্যালয়ের এই সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত বিদ্যালয়ের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হোক। এতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে নিয়মিত পাঠগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং শিক্ষার মানও আরও উন্নত হবে।”

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, আমি এ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে।শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।