চাঁদাবাজির অভিযোগের পর এবার ইয়াবা কাণ্ডে আলোচনায় এসেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানায় কর্মরত ডিএসবি কনস্টেবল রিয়াদ হোসেন। হাজীগঞ্জের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনকে ইয়াবারসহ আটকের পর তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ইয়াবার একটি অংশ ফেরত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এর আগে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়। পরে ওই ব্যবসায়ীর অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে কনস্টেবল রিয়াদকে ওই ব্যবসায়ীর ম্যানেজারের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ওই অভিযোগের পর রিয়াদকে সাময়িকভাবে হাজীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে ইয়াবা ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত আগস্ট মাসের ৪ অথবা ৫ তারিখে হাজীগঞ্জ থানার পূর্ব পাশে উপজেলা ডাকঘরের সামনে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া এলাকার মোহাম্মদ হাশেমের ছেলে বিল্লাল হোসেনকে আটক করেন কনস্টেবল রিয়াদ।
বিল্লাল হোসেনের বক্তব্যের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “১৮ পিস মাল ছিল আমার কাছে। ১১ হাজার টাকা ছিল আমার কাছে। পরে এক হাজার—মোট ১২ হাজার টাকা নিচ্ছে। আর আমারে ১০ পিস মাল ফেরত দিছে।”
অভিযোগ অনুযায়ী, আটকের সময় বিল্লালের কাছ থেকে ১৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় ব্যবসায়ী মনিরসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা উদ্ধারের পর বিল্লালের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ১০ পিস ইয়াবা তাকে ফেরত দিয়ে ৮ পিস ইয়াবা নিয়ে চলে যান কনস্টেবল রিয়াদ—এমন অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার বিষয়ে বিল্লাল হোসেনের একটি কথিত স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভিডিওতে বিল্লালকে আটকের ঘটনা, টাকা নেওয়া এবং ইয়াবার একটি অংশ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
রিয়াদের বিরুদ্ধে আগে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি নতুন করে ওঠা এসব অভিযোগও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রিয়াদ হোসেনকে ইতোমধ্যে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে বলে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, আগের অভিযোগের পাশাপাশি নতুন করে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তবে কনস্টেবল রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য যে, মাদক ব্যবসায় বিল্লাল হোসেন এর আগে হাজিগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে মাদক নিয়ে একাধিকবার আটক হয়েছে ।




















