ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর গাছ কাটা ও জমি দখলের অভিযোগ

  • জসিম উদ্দিন
  • আপডেট : ০৮:১০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 211
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতিবেশী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জমির সীমানা দখল ও সৃজনকৃত বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি কেটে বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক বরাবর এ অভিযোগ করেন উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের হামছাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. নূর নবী।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম শাহাদাত হোসেন। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮ নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নূর নবী ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হামছাপুর মৌজায় ৩.৫০ শতক জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছিলেন। পরবর্তীতে তার সংলগ্ন পাশের জমিটি ক্রয় করেন ওই ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন।
অভিযোগে নূর নবী দাবি করেন, শাহাদাত হোসেন সরকারি চাকরির ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি তার অনুপস্থিতিতে নিজের ক্রয়কৃত জমির দখল নেন এবং সীমানা নির্ধারণ করেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর শাহাদাত হোসেন ও তার লোকজন অনধিকার প্রবেশ করে নূর নবীর সৃজনকৃত বাগান থেকে বেশ কিছু ফলজ, বনজ ও বেলজিয়াম গাছ জোরপূর্বক কেটে ধ্বংস করেন। বাধা দিতে গেলে ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে ডিসি, ইউএনও কিংবা এসিল্যান্ড তার কিছুই করতে পারবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।
নূর নবী জানান, পূর্বে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন।
তবে জমি মাপজরিপকারী (আমিন) বোরহান উদ্দিন মোল্লা জানান, সীমানা নির্ধারণের দিন নূর নবী উপস্থিত না থাকলেও জমিটির মূল বিক্রেতা উপস্থিত ছিলেন। সিএস ও বিআরএস দাগ-নকশা অনুযায়ী সঠিকভাবে জমির সীমানা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, “নূর নবী আমার কাছে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন। আমি তাকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
গাছ কাটা ও হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, “নূর নবী যেসব গাছ কাটার কথা বলছেন, তা মূলত আমার নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই পড়েছে। জমি মাপজরিপের দিন তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হলেও তিনি আসেননি। মূলত তিনি পূর্বে এই জমিটি কিনতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন, সেই ক্ষোভ থেকেই এখন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিরোধ সৃষ্টি করছেন।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

ফরিদগঞ্জে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর গাছ কাটা ও জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট : ০৮:১০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতিবেশী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জমির সীমানা দখল ও সৃজনকৃত বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি কেটে বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক বরাবর এ অভিযোগ করেন উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের হামছাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. নূর নবী।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম শাহাদাত হোসেন। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮ নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নূর নবী ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হামছাপুর মৌজায় ৩.৫০ শতক জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছিলেন। পরবর্তীতে তার সংলগ্ন পাশের জমিটি ক্রয় করেন ওই ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন।
অভিযোগে নূর নবী দাবি করেন, শাহাদাত হোসেন সরকারি চাকরির ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি তার অনুপস্থিতিতে নিজের ক্রয়কৃত জমির দখল নেন এবং সীমানা নির্ধারণ করেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর শাহাদাত হোসেন ও তার লোকজন অনধিকার প্রবেশ করে নূর নবীর সৃজনকৃত বাগান থেকে বেশ কিছু ফলজ, বনজ ও বেলজিয়াম গাছ জোরপূর্বক কেটে ধ্বংস করেন। বাধা দিতে গেলে ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে ডিসি, ইউএনও কিংবা এসিল্যান্ড তার কিছুই করতে পারবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।
নূর নবী জানান, পূর্বে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন।
তবে জমি মাপজরিপকারী (আমিন) বোরহান উদ্দিন মোল্লা জানান, সীমানা নির্ধারণের দিন নূর নবী উপস্থিত না থাকলেও জমিটির মূল বিক্রেতা উপস্থিত ছিলেন। সিএস ও বিআরএস দাগ-নকশা অনুযায়ী সঠিকভাবে জমির সীমানা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, “নূর নবী আমার কাছে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন। আমি তাকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
গাছ কাটা ও হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, “নূর নবী যেসব গাছ কাটার কথা বলছেন, তা মূলত আমার নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই পড়েছে। জমি মাপজরিপের দিন তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হলেও তিনি আসেননি। মূলত তিনি পূর্বে এই জমিটি কিনতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন, সেই ক্ষোভ থেকেই এখন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিরোধ সৃষ্টি করছেন।