চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দেড় যুগ আগে মারা যাওয়া পিতাকে জীবিত দেখিয়ে সম্পত্তি নিজের নামে নামজারি করার অভিযোগ উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা মো. আমির হোসেন মৃধার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নামজারি বাতিল চেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেছেন তার ভাই শফিকুর রহমান মৃধা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাব্দেরগাঁও মৌজার ১৪৩৬ নম্বর বাড়ির দাগে ১৬ শতক জমি মোখলেছুর রহমান মৃধার নামে ৮০৯ নম্বর বিএস খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। তিনি ২০০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে যান। ওয়ারিশ সূত্রে ওই সম্পত্তিতে তাদের মালিকানা তৈরি হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি করা নামজারি আবেদনে ওই দাগের সম্পূর্ণ ১৬ শতক জমি নিজের নামে নামজারির আবেদন করেন মো. আমির হোসেন মৃধা। নামজারি মোকদ্দমা নম্বর ৫০৪৭/২০২১-২২। অভিযোগকারীর দাবি, ওই আবেদনের সময় পিতার মৃত্যুর তথ্য ও অন্যান্য ওয়ারিশের বিষয়টি গোপন করা হয়।
আরও অভিযোগ করা হয়, নামজারি আবেদনের বিষয়ে আপত্তি থাকলে ভূমি অফিসে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার জন্য ২০২২ সালের ২৫ মে মৃত মোখলেছুর রহমান মৃধার নামে নোটিশ জারি করা হয়। নির্ধারিত সময়ে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় একতরফাভাবে তার নামে ১৮৯৭ নম্বর নামজারি খতিয়ান সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।
বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হলে আমির হোসেন মৃধার ভাই শফিকুর রহমান মৃধা ওই নামজারি বাতিলের আবেদন করেন।
শফিকুর রহমান মৃধা বলেন, তাদের বাবা মোখলেছুর রহমান মৃধা ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি আদালতের বিভিন্ন মামলার নথিতেও উল্লেখ রয়েছে। তার দাবি, ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি একটি মামলায় বাদী হিসেবে বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য আমির হোসেন আদালতে আবেদন করেছিলেন। এছাড়া ফরিদগঞ্জের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দায়ের করা ৬৪/০৬ নম্বর মামলাতেও বাবার মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করা হয়েছিল।
শফিকুর রহমানের অভিযোগ, এসব তথ্য জানা থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালে নামজারি আবেদনের সময় বাবাকে জীবিত দেখিয়ে নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ১৬ শতক সম্পত্তি নিজের নামে নামজারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এই নামজারি বাতিলের জন্য ভূমি অফিসে আবেদন করেছি। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে আমির হোসেন মৃধার পক্ষে তার বড় ছেলে মোশারফ হোসেন ফারুক মৃধা বলেন, “প্রশাসন নোটিশ করেছে। এটা আমার বাবার বিষয় না। প্রশাসন ভুল করলে তার দায়ভার কি আমার বাবার? প্রশাসন যদি ভুল করে ভুল নোটিশ প্রয়োগ করে, সেই দায়ভার আমাদের নয়, প্রশাসনের।”
তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৮৭ সালে তার দাদা বসবাসের জন্য মৌখিকভাবে ওই জায়গা তার বাবাকে দিয়ে যান এবং এরপর থেকে তার বাবা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।
এ বিষয়ে আরও প্রশ্ন করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নামজারি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কোনো ভুল বা অনিয়ম হয়েছে কি না এবং আবেদনটির বর্তমান অবস্থা কী—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও নথিপত্র পর্যালোচনার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।




















