ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি চাকরি পেয়েই প্রবাসী স্বামীকে তা’লাক দিলো স্ত্রী

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 181

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উনকিলা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সাইফুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস সরকারি চাকরি পাওয়ার পর তাকে তালাক দিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেছেন সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে সাইফুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে জান্নাতুল ফেরদাউসের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে থেকেই সাইফুল মালয়েশিয়ায় প্রবাসী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও মালয়েশিয়ায় চলে যান।

সাইফুলের দাবি, স্ত্রী পড়াশোনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে কলেজে ভর্তি করানো হয়। পরবর্তীতে সরকারি চাকরির প্রস্তুতির জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে কোচিংয়ে ভর্তি করানো হয়। প্রায় চার বছর ঢাকায় থেকে পড়াশোনা ও কোচিং করার পর ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী পদে চাকরি পান জান্নাতুল ফেরদাউস।

সাইফুলের অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার পর থেকেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তিনি কাউকে না জানিয়ে গত ১ জুলাই দেশে ফিরে ঢাকায় স্ত্রীর কর্মস্থলে যান। সেখানে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলেও তাকে অপেক্ষায় রেখে জান্নাতুল চলে যান বলে দাবি করেন সাইফুল। পরে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন।

এ বিষয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানালে পারিবারিকভাবে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে এর কয়েকদিনের মধ্যেই সাইফুলের বাড়িতে স্ত্রীর পাঠানো তালাকের নোটিশ পৌঁছে বলে জানান তিনি।

সাইফুল ইসলামের দাবি, স্ত্রীর পড়াশোনা, কোচিং, ঢাকায় থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচ তিনি বহন করেছেন। স্ত্রীর ভবিষ্যৎ গড়তে তার উপার্জিত অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় করেছেন। বর্তমানে তিনি নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরেছেন বলেও দাবি করেন।

এ ঘটনায় নিজের গচ্ছিত অর্থ ও সম্পদের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে চাঁদপুর আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান সাইফুল ইসলাম।

এদিকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই ফয়সাল আহমেদ বলেন, সাইফুল বিদেশে থাকাকালে তার বোনের খোঁজখবর রাখতেন না। এ কারণে জান্নাতুল তাকে তালাক দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, জান্নাতুলের লেখাপড়া, কোচিং, ঢাকায় বাসাভাড়া, থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচ সাইফুলের অর্থেই হয়েছে।

মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

সরকারি চাকরি পেয়েই প্রবাসী স্বামীকে তা’লাক দিলো স্ত্রী

আপডেট : ০৮:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উনকিলা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সাইফুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস সরকারি চাকরি পাওয়ার পর তাকে তালাক দিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেছেন সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে সাইফুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে জান্নাতুল ফেরদাউসের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে থেকেই সাইফুল মালয়েশিয়ায় প্রবাসী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও মালয়েশিয়ায় চলে যান।

সাইফুলের দাবি, স্ত্রী পড়াশোনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে কলেজে ভর্তি করানো হয়। পরবর্তীতে সরকারি চাকরির প্রস্তুতির জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে কোচিংয়ে ভর্তি করানো হয়। প্রায় চার বছর ঢাকায় থেকে পড়াশোনা ও কোচিং করার পর ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী পদে চাকরি পান জান্নাতুল ফেরদাউস।

সাইফুলের অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার পর থেকেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তিনি কাউকে না জানিয়ে গত ১ জুলাই দেশে ফিরে ঢাকায় স্ত্রীর কর্মস্থলে যান। সেখানে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলেও তাকে অপেক্ষায় রেখে জান্নাতুল চলে যান বলে দাবি করেন সাইফুল। পরে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন।

এ বিষয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানালে পারিবারিকভাবে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে এর কয়েকদিনের মধ্যেই সাইফুলের বাড়িতে স্ত্রীর পাঠানো তালাকের নোটিশ পৌঁছে বলে জানান তিনি।

সাইফুল ইসলামের দাবি, স্ত্রীর পড়াশোনা, কোচিং, ঢাকায় থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচ তিনি বহন করেছেন। স্ত্রীর ভবিষ্যৎ গড়তে তার উপার্জিত অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় করেছেন। বর্তমানে তিনি নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরেছেন বলেও দাবি করেন।

এ ঘটনায় নিজের গচ্ছিত অর্থ ও সম্পদের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে চাঁদপুর আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান সাইফুল ইসলাম।

এদিকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই ফয়সাল আহমেদ বলেন, সাইফুল বিদেশে থাকাকালে তার বোনের খোঁজখবর রাখতেন না। এ কারণে জান্নাতুল তাকে তালাক দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, জান্নাতুলের লেখাপড়া, কোচিং, ঢাকায় বাসাভাড়া, থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচ সাইফুলের অর্থেই হয়েছে।

মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।