ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উন্নয়ন, বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ বাজার অংশে সড়ক উন্নয়নকাজ দ্রুতগতিতে চললেও সড়কের ওপর থাকা বিদ্যুতের খুঁটিগুলো না সরানোয় মারাত্মক বিপত্তি দেখা দিয়েছে।

 

সড়কের উত্তর পাশে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর খুঁটিগুলো রেখেই উন্নয়নকাজ চালানোয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র প্রতিবাদ ও আলোচনা চলছে। অনেকেই সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে খুঁটি রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও সমন্বয়হীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল ও হাজীগঞ্জ বাজারের রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের লাইন স্থানান্তরের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুটি প্রাক্কলন বা এস্টিমেট প্রস্তুত করা হয়। এর জন্য মোট ২২ লাখ ৪২ হাজার ৮২৩ টাকা জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়।

​তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোন কর্তৃপক্ষ বহন করবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই অর্থ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং জেলা প্রশাসক মহোদয় এই কাজটি সমিতি নিজস্ব অর্থায়নে সম্পাদনের অনুরোধ জানান।

 

​এ পরিস্থিতিতে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর পক্ষ থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাপবিবোর্ডের পবিস মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনা পরিচালনা (পূর্বাঞ্চল) পরিদপ্তরের পরিচালক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। জেনারেল ম্যানেজার গোবিন্দ আগরওয়ালা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুরোধের প্রেক্ষিতে লাইন স্থানান্তরের বিষয়টি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হয়েছে।

তবে চিঠি পাঠানোর পর বাপবিবোর্ড থেকে কবে নাগাদ সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসবে এবং কবেই বা খুঁটিগুলো অপসারণ করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

 

​উন্নয়নকাজের এমন স্থবিরতা ও ধীরগতিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারী ও চালকদের। স্থানীয়দের জোর দাবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দ্রুত পারস্পরিক সুসমন্বয়ের মাধ্যমে এই জটিলতার অবসান ঘটাক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ব্যবস্থা করে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলবে এবং হাজীগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করবে এটাই এখন সর্বসাধারণের প্রত্যাশা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উন্নয়ন, বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি

আপডেট : ০৬:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ বাজার অংশে সড়ক উন্নয়নকাজ দ্রুতগতিতে চললেও সড়কের ওপর থাকা বিদ্যুতের খুঁটিগুলো না সরানোয় মারাত্মক বিপত্তি দেখা দিয়েছে।

 

সড়কের উত্তর পাশে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর খুঁটিগুলো রেখেই উন্নয়নকাজ চালানোয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র প্রতিবাদ ও আলোচনা চলছে। অনেকেই সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে খুঁটি রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও সমন্বয়হীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল ও হাজীগঞ্জ বাজারের রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের লাইন স্থানান্তরের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুটি প্রাক্কলন বা এস্টিমেট প্রস্তুত করা হয়। এর জন্য মোট ২২ লাখ ৪২ হাজার ৮২৩ টাকা জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়।

​তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোন কর্তৃপক্ষ বহন করবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই অর্থ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং জেলা প্রশাসক মহোদয় এই কাজটি সমিতি নিজস্ব অর্থায়নে সম্পাদনের অনুরোধ জানান।

 

​এ পরিস্থিতিতে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর পক্ষ থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাপবিবোর্ডের পবিস মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনা পরিচালনা (পূর্বাঞ্চল) পরিদপ্তরের পরিচালক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। জেনারেল ম্যানেজার গোবিন্দ আগরওয়ালা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুরোধের প্রেক্ষিতে লাইন স্থানান্তরের বিষয়টি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হয়েছে।

তবে চিঠি পাঠানোর পর বাপবিবোর্ড থেকে কবে নাগাদ সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসবে এবং কবেই বা খুঁটিগুলো অপসারণ করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

 

​উন্নয়নকাজের এমন স্থবিরতা ও ধীরগতিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারী ও চালকদের। স্থানীয়দের জোর দাবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দ্রুত পারস্পরিক সুসমন্বয়ের মাধ্যমে এই জটিলতার অবসান ঘটাক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ব্যবস্থা করে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলবে এবং হাজীগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করবে এটাই এখন সর্বসাধারণের প্রত্যাশা।